বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম বন্ধে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি টিআইবির
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য নীতিগত অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ব্যবহার একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ খাতে শিশুশ্রমের অবসান ঘটাতে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এক ধারণাপত্রে টিআইবি জানায়, জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১৭ লাখ ৮০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত এবং একটি বড় অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে কাজ করছে।
টিআইবির তথ্যমতে, ডাম্পসাইট ও রাস্তাঘাট থেকে কোনো ধরনের সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম, যেমন গ্লাভস বা মাস্ক ছাড়া শিশুরা প্লাস্টিক, মেডিকেল বর্জ্য ও ই-বর্জ্য সংগ্রহ করছে। ফলে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, ধারালো বস্তুর আঘাত এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধির শিকার হচ্ছে।
সংস্থাটি অভিযোগ করে, গৃহস্থালী বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রাইমারি কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিসিএসপি) নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলো প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে পিসিএসপি-কে টেন্ডার দিলেও এ প্রক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ওয়ার্ড কাউন্সিলররা এসব কাজের বরাদ্দ পেয়ে থাকেন।
টিআইবি আরও জানায়, চুক্তিতে শিশুশ্রম নিষিদ্ধের শর্ত থাকলেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর নজরদারি বা তদারকি করা হয় না। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম বন্ধে আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন কার্যত অনুপস্থিত।
শিশুশ্রম নির্মূলে টিআইবি বেশ কয়েকটি জরুরি সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া, শিশুদের পুনর্বাসনে বিকল্প কর্মকৌশল গ্রহণ, ওয়ার্ডভিত্তিক কঠোর নজরদারি এবং ডাম্পিং সাইটগুলোতে বিশেষায়িত ‘শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণ ইউনিট’ গঠন।
এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমের ঘটনা জানাতে নাগরিকদের জন্য একটি ডেডিকেটেড হটলাইন চালু এবং বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের মূলধারায় এনে শ্রম আইন-২০০৬-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টিআইবি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উদাসীনতাকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের যোগ্য বলে অভিহিত করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সনাক যশোরের সভাপতি অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কমা, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং অধ্যক্ষ শাহিন ইকবালসহ অন্যান্যরা।























