নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভূতুড়ে বিল আদায় বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ১১ দলীয় ঐক্য যশোর জেলার নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার সকালে যশোরের সিভিল কোর্ট মোড়ে জড়ো হয়ে তারা প্রথমে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে গমন করেন এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবিনামা তুলে ধরেন। সবশেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষ নানামুখী নাগরিক ও অর্থনৈতিক সংকটে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র অভাবে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের মতো জরুরি খাতের সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভূতুড়ে বিল ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। তাছাড়া চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের পেশ করা ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দ্রুত গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং নিরসন করে সর্বত্র নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিদ্যুতের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা এবং ইতোমধ্যে আদায়কৃত ভূতুড়ে বিল ফেরত বা পরবর্তী বিলে সমন্বয় করা। চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে ১১ দলীয় ঐক্য যশোরের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আবু জাফর ছিদ্দীকী এবং সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা, মুফতি রাশেদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম মিলনসহ জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ১০ দফা দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের আশু ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

Reporter Name 





















