Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

অবকাঠামো নয়, শিক্ষার মানই হবে অর্জনের মাপকাঠি: যশোরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের প্রকৃত শিখণফল দিয়েই প্রাথমিক শিক্ষার সফলতা বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিগত দিনে ভবন নির্মাণ বা বাজেট শেষ করাকেই সাফল্য হিসেবে দেখা হতো। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে তা দিয়েই মন্ত্রী থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সফলতা নির্ধারিত হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এই কর্মশালার আয়োজন করে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মতিয়ার রহমান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুদ হোসেন। মূল বক্তা ছিলেন খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম।

কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।তিনি বলেন,আটকে থাকা সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করে আগামী অক্টোবর থেকে পদায়ন শুরু হবে। পিটিআই-তে দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং শেষে তারা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে যোগ দেবেন। নতুন নীতিমালায় প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকেই পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

পিএসসির মাধ্যমে প্রায় ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই পদোন্নতির পর শূন্য হওয়া আরও ৩০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ আগামী বছরের মধ্যে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ক্রীড়া বিষয়ক টেক্সটবুক চালু হবে, যা ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামে যুক্ত হবে। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে ‘শেয়ার্ড ইউস পলিসি’র মাধ্যমে মাধ্যমিক স্কুল ও স্থানীয় ক্রীড়া কাঠামোর সহায়তা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে স্থানীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকা উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) গুলো পুনরায় চালু করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় এনে সেখানকার শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে চালুকৃত স্কুল ফিডিং প্রজেক্ট (ইউএইচটি দুধ, ফোর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম, কলা ও বনরুটি) আগামী বছর দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তাজা রান্না করা খাবার দেওয়ার জন্য একটি নতুন পাইলট প্রজেক্টের পরিকল্পনা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করে এগুলোকে পুনরায় অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:18 pm, Wednesday, 2 September 2026
52 Time View

অবকাঠামো নয়, শিক্ষার মানই হবে অর্জনের মাপকাঠি: যশোরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

Update Time : 07:18 pm, Wednesday, 2 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের প্রকৃত শিখণফল দিয়েই প্রাথমিক শিক্ষার সফলতা বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিগত দিনে ভবন নির্মাণ বা বাজেট শেষ করাকেই সাফল্য হিসেবে দেখা হতো। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে তা দিয়েই মন্ত্রী থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সফলতা নির্ধারিত হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এই কর্মশালার আয়োজন করে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মতিয়ার রহমান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুদ হোসেন। মূল বক্তা ছিলেন খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম।

কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।তিনি বলেন,আটকে থাকা সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করে আগামী অক্টোবর থেকে পদায়ন শুরু হবে। পিটিআই-তে দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং শেষে তারা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে যোগ দেবেন। নতুন নীতিমালায় প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকেই পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

পিএসসির মাধ্যমে প্রায় ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই পদোন্নতির পর শূন্য হওয়া আরও ৩০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ আগামী বছরের মধ্যে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ক্রীড়া বিষয়ক টেক্সটবুক চালু হবে, যা ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামে যুক্ত হবে। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে ‘শেয়ার্ড ইউস পলিসি’র মাধ্যমে মাধ্যমিক স্কুল ও স্থানীয় ক্রীড়া কাঠামোর সহায়তা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে স্থানীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকা উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) গুলো পুনরায় চালু করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় এনে সেখানকার শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে চালুকৃত স্কুল ফিডিং প্রজেক্ট (ইউএইচটি দুধ, ফোর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম, কলা ও বনরুটি) আগামী বছর দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তাজা রান্না করা খাবার দেওয়ার জন্য একটি নতুন পাইলট প্রজেক্টের পরিকল্পনা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করে এগুলোকে পুনরায় অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।