যশোরে এমআরএ-এর এনজিও চাকরি মেলায় বেকারদের উপচে পড়া ভিড়
অব্যবস্থাপনা ও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি ‘প্রহসন’
স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর উদ্যোগে যশোরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত দিনব্যাপী এনজিও চাকরি মেলায় হাজার হাজার বেকার তরুণ-তরুণীর ঢল নেমেছে। ৩৬টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মেলা থেকে ৫০০ জন চাকরিপ্রার্থীকে সরাসরি ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। তবে মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন, কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়া, যাতায়াত ও সময়ের অপচয় এবং চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আয়োজনকে স্রেফ ‘অব্যবস্থাপনা ও প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে যশোর পিটিআই চত্বরে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এমআরএ-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হেলাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে এমআরএ-এর নির্বাহী পরিচালক নূরে আলম মেহেদী, পরিচালক আবদুল মান্নান, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহসহ আরআরএফ, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও আর্স বাংলাদেশের মতো শীর্ষ এনজিওর প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দীন জানান, ক্ষুদ্রঋণ খাতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ কর্মরত রয়েছেন। এ খাতে দ্রুত কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যেই যশোর থেকে এই আঞ্চলিক মেলার সূচনা করা হলো, যা পরবর্তীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।
তবে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা পার হলেও মেলা প্রাঙ্গণে নেমে আসে চরম বিশৃঙ্খলা। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার চাকরিপ্রত্যাশী যশোর পিটিআই চত্বরে এসে জড়ো হন। মেলার স্টলগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় এবং কোনো সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎকার কিংবা মূল্যায়ন না পেয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে কেবল জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে।
হতাশা প্রকাশ করে আশিকুর রহমান নামে এক চাকরিপ্রত্যাশী ক্ষোভের সাথে বলেন, আগে জানলে আমি কখনও এই চাকরির মেলায় আসতাম না। এখানে এসে অযথা টাকা খরচ হয়েছে, সময় নষ্ট হলো আর চরম কষ্ট পেলাম। এভাবে কখনও বেকার সমস্যার সমাধান করা যায় না। আমাদের ডেকে এনে মূলত আমাদের সাথে প্রহসন করা হয়েছে।
একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ আয়োজানের কঠোর সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। খন্দকার রুবায়েত নামে এক শিক্ষার্থী জমাকৃত সিভির ছবি পোস্ট করে লেখেন, এই জন্যই আমি চাকরির মেলায় যাইনি।
এসকে সুজন নামে অপর একজন মন্তব্য করেন, সকাল থেকে বাইরের জেলার ছেলেমেয়েরা কষ্ট করেছেন, একটা চাকরির জন্য ছুটাছুটি করেছেন; কিন্তু প্রাপ্তি শূন্য।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমরান খান ফেসবুকে এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, যুবকদের বেকার মেলায় এনে টাকা খরচ করানো বন্ধ করে তাদের বাস্তবসম্মত উৎপাদন, দক্ষতা ও বিপণন প্রশিক্ষণ দিন। শিক্ষিত যুবকদের দিয়ে সুদের কিস্তি আদায় করানোর এই নাটক বন্ধ হওয়া দরকার।
সার্বিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মন্তব্য করেন, এটি অব্যবস্থাপনার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। শুধুই আনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া এটি আর কিছুই নয়।
ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জবাবে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলায় সংগৃহীত কয়েক হাজার সিভি প্রাক-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্রুত চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে।























