Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ইংরেজি শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে পুলিশ স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠছিল। রোববার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আজ সোমবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।

অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানা পুলিশ দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তছিরুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় তাকে সংশ্লিষ্ট ক্লাসের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার বাসা থেকে একটি ল্যাপটপসহ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিস-আর-রেজা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:57 pm, Monday, 14 September 2026
50 Time View

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ইংরেজি শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে

Update Time : 06:57 pm, Monday, 14 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে পুলিশ স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠছিল। রোববার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আজ সোমবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।

অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানা পুলিশ দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তছিরুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় তাকে সংশ্লিষ্ট ক্লাসের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার বাসা থেকে একটি ল্যাপটপসহ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিস-আর-রেজা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।