যশোরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে যশোরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শহরের মনিহার এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দড়াটানা ভৈরব চত্বরে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও শহিদুল বারী রবুর নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের তথাকথিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নামে বিরোধী দল এবং দেশ থেকে গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এখন এক সুরে কথা বলছে। কোনো ইস্যু না পেয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারা নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হলে জামায়াত, এনসিপি কিংবা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দেন তারা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ স্বপ্ন দেখছে ডিসেম্বরে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনবে, আর অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি বলছে ডিসেম্বরে নাকি সরকারের পতন ঘটাবে। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে রাজপথে লড়েছি। দুই-চারটি ককটেল ফাটিয়ে তারেক রহমানের সরকারের পতন ঘটানো যাবে না।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, সারাদেশে হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন এবং লাখ লাখ নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন, তবুও মাথা নত করেননি। কেবল যশোরেই দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আত্মাহুতি দিয়েছেন, কিন্তু স্থানীয় শীর্ষ নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও হাসিনার অত্যাচার-নির্যাতনের কাছে মাথা নত করেননি; বরং হাসিনার পতন নিশ্চিত করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মাত্র ৬ মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া একটি নির্বাচিত সরকার আওয়ামী লীগের সীমাহীন লুটপাটে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হওয়া দেশকে নতুন করে পুনর্গঠন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী যিনি শুক্রবারও অফিস করে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের আসার পরদিন থেকেই সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে বিএনপির কোনো এমপি বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগরের সঞ্চালনা ও বক্তব্যে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী হায়দার রানা, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তাফা তরফদার রয়েল ও সদস্য সচিব সাইফুল বাশার সুজন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব রাজু আহমেদসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।























