যশোরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জিএম গোলাম হোসাইনের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি জানান ভুক্তভোগী শিশুটির মা রেকছোনা বেগম। এ সময় শিশুটির বাবা হুমায়ুন কবিরসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিশুটির মা রেকছোনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জিএম গোলাম হোসাইন তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে বৃত্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত প্রস্তুতির কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের চেষ্টা চালান ওই শিক্ষক। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার প্রভাবশালী চক্র বিষয়টি নানাভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিশুটির বাবা হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি আমার মেয়ের মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। একজন শিক্ষকের কাছে যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকে, তবে অভিভাবকরা কোথায় যাবেন? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো- ঘটনার নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত কমিটি গঠন। তদন্তে সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। ভুক্তভোগী শিশুটির মানসিক সুস্থতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়ের অন্যান্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা। বিচার প্রক্রিয়া ধামাচাপা দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা বন্ধ করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শিশুটির পরিবার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।























