Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

যশোরে দুর্গাপূজায় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার ও নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী অমিতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে যশোরে এক প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আন্তর্জাতিক বাজারের সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পূজামণ্ডপে বিদ্যুতের পরিমিত ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দুর্গাপূজায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করে মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ব্যাপক আলোকসজ্জা জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাছাড়া জেনারেটর পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্বালানি তেলও মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করতে হয়। তাই জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমাদের সকলকে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে যেকোনো ধরনের পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা, অপতৎপরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে স্ব-স্ব এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিশেষ নির্দেশনা দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চালানো হবে এবং অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর যশোর জেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৮টি বেশি। এছাড়া পূজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ কেজি (১ টন) করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।

সভায় মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই প্রতিরোধ, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

উক্ত সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস, বিভিন্ন থানার ওসি, বিজিবি ও এনএসআই-এর কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:37 pm, Saturday, 26 September 2026
39 Time View

যশোরে দুর্গাপূজায় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার ও নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী অমিতের

Update Time : 07:37 pm, Saturday, 26 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে যশোরে এক প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আন্তর্জাতিক বাজারের সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পূজামণ্ডপে বিদ্যুতের পরিমিত ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দুর্গাপূজায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করে মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ব্যাপক আলোকসজ্জা জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাছাড়া জেনারেটর পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্বালানি তেলও মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করতে হয়। তাই জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমাদের সকলকে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে যেকোনো ধরনের পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা, অপতৎপরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে স্ব-স্ব এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিশেষ নির্দেশনা দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চালানো হবে এবং অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর যশোর জেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৮টি বেশি। এছাড়া পূজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ কেজি (১ টন) করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।

সভায় মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই প্রতিরোধ, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

উক্ত সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস, বিভিন্ন থানার ওসি, বিজিবি ও এনএসআই-এর কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।