Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

যশোরে গ্রাম আদালত সচল রাখা ও প্রচারণায় স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল হাসান। সূচনা বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালত কার্যকর হলে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে। তবে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থার ঘাটতি ও সচেতনতার অভাব গ্রাম আদালতের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় মূল প্রস্তাবনা ও প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন। অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত যশোরে মোট ৭,৮১৪টি মামলা গৃহীত হয়, যার মধ্যে ৭,৭৪৩টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোকে মোট ১৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। গড়ে মাত্র ১০ দিনে একটি মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আকরাম হোসেন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর ইসলাম, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাকের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা। বক্তারা গ্রাম আদালতে দালালদের দৌরাত্ম্য রোধ, পুলিশের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি, এবং তৃতীয় লিঙ্গ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা ছড়ানোর তাগিদ দেন।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের প্রচার চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:23 pm, Tuesday, 29 September 2026
45 Time View

যশোরে গ্রাম আদালত সচল রাখা ও প্রচারণায় স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয় সভা

Update Time : 07:23 pm, Tuesday, 29 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল হাসান। সূচনা বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালত কার্যকর হলে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে। তবে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থার ঘাটতি ও সচেতনতার অভাব গ্রাম আদালতের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় মূল প্রস্তাবনা ও প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন। অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত যশোরে মোট ৭,৮১৪টি মামলা গৃহীত হয়, যার মধ্যে ৭,৭৪৩টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোকে মোট ১৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। গড়ে মাত্র ১০ দিনে একটি মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আকরাম হোসেন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর ইসলাম, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাকের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা। বক্তারা গ্রাম আদালতে দালালদের দৌরাত্ম্য রোধ, পুলিশের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি, এবং তৃতীয় লিঙ্গ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা ছড়ানোর তাগিদ দেন।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের প্রচার চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।