যশোরে এতিম নারীর পৈতৃক জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে এক এতিম ও অসহায় নারীর পৈতৃক ও দাদার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম গাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও ন্যায়বিচারের আশায় যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী নারীর নাম রেখা খাতুন। তিনি যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত রাসূল ইসলাম গাজীর (রবিউল ইসলাম গাজী নামেও পরিচিত) মেয়ে।
অভিযোগে জানা যায়, রেখা খাতুনের বয়স যখন চার বছর, তখন তাঁর বাবা মারা যান এবং পরবর্তীতে মা অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ছোটবেলা থেকে এতিম অবস্থায় বেড়ে ওঠা রেখা খাতুন জানান, পৈতৃক ও দাদির সূত্রের অধিকার অনুযায়ী চাচাতো ভাইয়েরা তাঁকে জমি বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি ৭৮ নম্বর খোলাডাঙ্গা মৌজার ১০১৯ নম্বর খতিয়ানের ১২৪৯, ১২৫৩, ১২৫৪ ও ১২৫৫ নম্বর দাগের মোট ১.৮ শতাংশ (১০৮ পয়েন্ট) জমি নিজের নামে নামপত্তন (মিউটেশন) করেন এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা-ট্যাক্স পরিশোধ করে আসছেন।
রেখা খাতুনের অভিযোগ, তাঁর বাবা জীবিত বা মৃত্যুর আগে কোনো জমি হস্তান্তর না করা সত্ত্বেও জুল গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম গাজী নিজেকে মৃত রাসূল ইসলাম গাজীর ভাই ও অংশের দাবিদার বানিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করেছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল বানিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জবরদখল করে রাখছেন। এছাড়া শহিদুল ইসলাম অতীতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক থাকার সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রেখা খাতুনকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি স্থানীয় মৃত রুধির কুমার বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী শেফালী বিশ্বাসের জমিও শহিদুল একইভাবে দখল করে আছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী এতিম নারী রেখা খাতুন জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত, ওয়ারিশানা ও রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিজের জমি বুঝে পাওয়া এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।























