যশোরে ৭৪৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে যশোরে উদযাপিত হতে যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। জেলার আটটি উপজেলায় এবার মোট ৭৪৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসবটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখা। এসময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলার আটটি উপজেলায় এবার ৭৪৬টি মন্দির ও মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে, যশোর সদর উপজেলায় ১৩৫টি, অভয়নগর উপজেলায় ১৩৩টি, মনিরামপুর উপজেলায় ১৩১টি, কেশবপুর উপজেলায় ১০২টি, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৮২টি, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৬১টি, চৌগাছা উপজেলায় ৫৩টি ও শার্শা উপজেলায় ৩২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে বোধন ও বিকেলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। ইতোমধ্যে মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দুর্গোৎসব চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যালয়ে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এখান থেকে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, এনএসআই, ডিজিএফআই, আনসার, ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি।নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিকল্প আলোর ব্যবস্থা। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন। ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন।
স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রবীণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিশেষ ‘নিরাপত্তা কমিটি’ গঠন। উৎসবের পবিত্রতা রক্ষায় মণ্ডপ এলাকায় উসকানিমূলক বা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী গান বাজানো থেকে বিরত থাকার কড়া নির্দেশনা।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে যশোরে যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকে, সে জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্ত সংহতি প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় যশোরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক রতন আচার্য্য, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি রবিন কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সাহা এবং পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার ঘোষ প্রমুখ।























