Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

ফরিদপুরের দুর্গম চরে ১১২.৪৯ একর জমি রুবেল বরকতের নামে

আব্দুল মান্নান ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:- জমির নেশায় রুবেল-বরকত সাধারণ মানুষের জমি শুধু দখলই করেননি, জাল দলিল করে খাসজমি লিখেও নিয়েছেন নিজেদের নামে। তবে খাসজমি নিজেদের নামে কিভাবে দলিল করলেন এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে।


মাত্র কয়েক বছরে ফরিদপুর বাইপাস সড়কের রাস্তার দুপাশের শতশত একর জমির মালিক বনে গেছেন আলোচিত দুই ভাই রুবেল আর বরকত। কোনো জমি কিনেছেন নামমাত্র দামে; কোনোটা জোর করে হেবা দলিল করিয়ে।

তবে তাদের দখলদারিত্ব সেখানেই থামেনি- তা পৌছে গেছে চরভদ্রাসন উপজেলা পর্যন্ত। যেখানে যেতে হয় ফরিদপুর শহরের ধলার মোড় থেকে নৌকায় আড়াই ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে। সেখানে তারা দখল করেছেন ১১২.৪৯ একর জমি। গড়ে তুলেছেন মালটা, নারিকেল আর কলার বাগান। সেই সাথে হাস, মুরগী, গরুর খামার।

শুধু সাধারণ মানুষ কিংবা ভূমিহীনদের জমি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি দুই ভাই, সরকারি খাস জমিও নিজেদের নামে দখল করেছেন তারা।

চরভদ্রাসনের ১৪ নং চর সালেপুর মৌজায় ১ নং খাস খতিয়ানের ১৪১ দাগে ৪.৫০ একর ও ১৪৭ নং দাগে ৩ একর খাস জমি নিজের নামে দলিল করে নিয়েছেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত।

তবে কিভাবে সরকারি খাস জমি সাজ্জাদ হোসেন বরকতের নামে দলিল করা হলো সেবিষয়ে সদুত্তর নেই। তবে জেলা প্রশাসক বরাবর ২০১৮ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একটি আবেদনের কপি পেয়েছে ডিবিসি নিউজ। যেখানে প্রতারণা করে জমির দলিল করা হয়েছে উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশ করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলছেন সরকারি জমি দখলমুক্ত করা তাদের নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, শুধু খাস জমি নয় বিভিন্ন বিভাগের যে সমস্ত জমি অবৈধ দখলে রয়েছে সেগুলো দখলমুক্ত করার কার্যক্রম আমরা নিয়মিত পরিচালনা করছি।

এখন পর্যন্ত আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী রুবেল-বরকতের আড়াই হাজার বিঘা সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:08 am, Wednesday, 16 September 2020
155 Time View

ফরিদপুরের দুর্গম চরে ১১২.৪৯ একর জমি রুবেল বরকতের নামে

Update Time : 09:08 am, Wednesday, 16 September 2020

আব্দুল মান্নান ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:- জমির নেশায় রুবেল-বরকত সাধারণ মানুষের জমি শুধু দখলই করেননি, জাল দলিল করে খাসজমি লিখেও নিয়েছেন নিজেদের নামে। তবে খাসজমি নিজেদের নামে কিভাবে দলিল করলেন এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে।


মাত্র কয়েক বছরে ফরিদপুর বাইপাস সড়কের রাস্তার দুপাশের শতশত একর জমির মালিক বনে গেছেন আলোচিত দুই ভাই রুবেল আর বরকত। কোনো জমি কিনেছেন নামমাত্র দামে; কোনোটা জোর করে হেবা দলিল করিয়ে।

তবে তাদের দখলদারিত্ব সেখানেই থামেনি- তা পৌছে গেছে চরভদ্রাসন উপজেলা পর্যন্ত। যেখানে যেতে হয় ফরিদপুর শহরের ধলার মোড় থেকে নৌকায় আড়াই ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে। সেখানে তারা দখল করেছেন ১১২.৪৯ একর জমি। গড়ে তুলেছেন মালটা, নারিকেল আর কলার বাগান। সেই সাথে হাস, মুরগী, গরুর খামার।

শুধু সাধারণ মানুষ কিংবা ভূমিহীনদের জমি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি দুই ভাই, সরকারি খাস জমিও নিজেদের নামে দখল করেছেন তারা।

চরভদ্রাসনের ১৪ নং চর সালেপুর মৌজায় ১ নং খাস খতিয়ানের ১৪১ দাগে ৪.৫০ একর ও ১৪৭ নং দাগে ৩ একর খাস জমি নিজের নামে দলিল করে নিয়েছেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত।

তবে কিভাবে সরকারি খাস জমি সাজ্জাদ হোসেন বরকতের নামে দলিল করা হলো সেবিষয়ে সদুত্তর নেই। তবে জেলা প্রশাসক বরাবর ২০১৮ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একটি আবেদনের কপি পেয়েছে ডিবিসি নিউজ। যেখানে প্রতারণা করে জমির দলিল করা হয়েছে উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশ করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলছেন সরকারি জমি দখলমুক্ত করা তাদের নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, শুধু খাস জমি নয় বিভিন্ন বিভাগের যে সমস্ত জমি অবৈধ দখলে রয়েছে সেগুলো দখলমুক্ত করার কার্যক্রম আমরা নিয়মিত পরিচালনা করছি।

এখন পর্যন্ত আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী রুবেল-বরকতের আড়াই হাজার বিঘা সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে।