খৃষ্টান ও নাস্তিক আখ্যা দিয়ে সমাজচ্যুত; তদন্তে নেমেছে প্রশাসন
রুবেল হোসেন টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:- টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নটরডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে খৃষ্টান ও নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ নিয়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধে জয়ী হতে উভয়পক্ষ ধর্মকে ব্যবহার করছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের তরফপুর পাথালিয়া গ্রামের দুই ভাই মৃত আবদুর রশিদ ও মফিজুলের পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিরোধ গিয়ে ঠেকেছে তাদের সন্তান শরিফ মাহমুদ ও জুয়েল খানের মধ্যে। সম্প্রতি তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের পহেলা মে সালিশি বৈঠকে বসে উভয়ের পরিবার।
তবে বৈঠকে বিষয়টি নিস্পত্তি না হয়ে ঘটে হাতাহাতির ঘটনা। শরিফ পক্ষ মামলা করেছে জুয়েলের বিরুদ্ধে। পরে, জুয়েল বাদী হয়ে শরিফসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে হামলা ও সমাজচ্যুত করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করে।
এদিকে, শরিফের পরিবার মসজিদে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কৌশলে সমাজচ্যুত কোরে তাদের নাস্তিক ও খ্রিস্টান বলে অপবাদ দেয় জুয়েলের পরিবার। তবে, অপরপক্ষের অভিযোগ, মসজিদ নিয়ে কটূ কথা ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা মানে না জুয়েলের পরিবার।
তবে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা বলছেন ভিন্ন কথা। জুয়েলের বাবা মফিজুল ইসলাম বলেন,’মন্ডপ কইছি ঠিক আছে। তবে মসজিদ বা মন্ডপ একই জিনিস। এখানে জোর করে টাকা নেওয়া লাগে না।
কোনো পক্ষ ধর্মকে অপব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। মির্জাপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ সাইদুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুপক্ষেরই অভিযোগ আছে আমাদের কাছে। এগুলো তদন্তাধীন আছে। কোর্ট বিচার করবে।
এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, পারিবারিক কলহ বা জমিজমা নিয়ে একটি বিরোধ, ধর্মকে সামনে এনে বা অন্য কোন বিষয়কে সামনে এনে কেউ যাতে কোন বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।























