Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

অভাবে তাড়নায় আত্মহত্যা : রত্না জন্মের পর থেকে মেলেনি সহায়তা!

ফরিদ দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি :–রত্নার জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই অন্য দিকে করোনায় আয়ের উৎস টুকু বন্ধ।

সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে কোন উপায় না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রত্না খাতুন (২৬)।

আজ সোমবার(১২ অক্টোবর) সকালে ১০ টাই তার নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছে পরিবার। করোনায় কোন কাজ না থাকায় আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা পরিবার ও পুলিশের। নিহত রত্না খাতুন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়বা ইউনিয়নের উত্তর যদুবয়রা গ্রামের দিন মজুর মফিজের মেয়ে।


স্থানীয়রা জানান, জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল রত্না । তার মলদার ও প্রসাবের একই রাস্তা ছিল। ঔষুধের উপর নির্ভর ছিল জীবন। নিহত রত্না দর্জির কাজ করে চালাতো তাদের সংসার। সংসারের সব খরচই বহন করতে হতো। রত্না জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী।

২৬ বছরেও হয়নি তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। ইহকালে মেলেনি কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য সহায়তা। সংগ্রামী এই নারী প্রতিবন্ধী হলেও তার কাজের মাধ্যমে বুঝতে দেননি কাউকে। করোনায় কাজ না থাকায় অভাব ছিলো তার নিত্য দিনের সঙ্গী। অভাবের কষ্ট সইতে না পেরে আজ সকালে নিজ ঘরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। সকালে এলাকাবাসী রত্নার লাশ নিজ ঘরে ঝুলতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

প্রতিবন্ধী রত্না


যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম বলেন, তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসলে অভাব তো রত্নার গায়ের সঙ্গে লেগেই আছে। সবকিছু মিলে সে আত্মহত্যা করেছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সহযোগীতা করে আসছি তাকে।

সমাজ সেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করতে আসলেও তার ডাক্তারি কোন কাগজপত্র না থাকায় তা হয়নি। এবার আমরা বলার পরই তার কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে।


কুমারখালী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন, এবার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড যাচাই বাছাই এই তালিকায় রত্নার নাম নেই। সে আমাদের কাছে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আসেনি।


এ বিষয়ে কুমারখালী থানার (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অভাব-অনটন কারণেই রত্না খাতুন আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনা নিশ্চিত করেন‌।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:39 pm, Monday, 12 October 2020
34 Time View

অভাবে তাড়নায় আত্মহত্যা : রত্না জন্মের পর থেকে মেলেনি সহায়তা!

Update Time : 08:39 pm, Monday, 12 October 2020

ফরিদ দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি :–রত্নার জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই অন্য দিকে করোনায় আয়ের উৎস টুকু বন্ধ।

সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে কোন উপায় না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রত্না খাতুন (২৬)।

আজ সোমবার(১২ অক্টোবর) সকালে ১০ টাই তার নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছে পরিবার। করোনায় কোন কাজ না থাকায় আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা পরিবার ও পুলিশের। নিহত রত্না খাতুন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়বা ইউনিয়নের উত্তর যদুবয়রা গ্রামের দিন মজুর মফিজের মেয়ে।


স্থানীয়রা জানান, জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল রত্না । তার মলদার ও প্রসাবের একই রাস্তা ছিল। ঔষুধের উপর নির্ভর ছিল জীবন। নিহত রত্না দর্জির কাজ করে চালাতো তাদের সংসার। সংসারের সব খরচই বহন করতে হতো। রত্না জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী।

২৬ বছরেও হয়নি তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। ইহকালে মেলেনি কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য সহায়তা। সংগ্রামী এই নারী প্রতিবন্ধী হলেও তার কাজের মাধ্যমে বুঝতে দেননি কাউকে। করোনায় কাজ না থাকায় অভাব ছিলো তার নিত্য দিনের সঙ্গী। অভাবের কষ্ট সইতে না পেরে আজ সকালে নিজ ঘরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। সকালে এলাকাবাসী রত্নার লাশ নিজ ঘরে ঝুলতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

প্রতিবন্ধী রত্না


যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম বলেন, তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসলে অভাব তো রত্নার গায়ের সঙ্গে লেগেই আছে। সবকিছু মিলে সে আত্মহত্যা করেছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সহযোগীতা করে আসছি তাকে।

সমাজ সেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করতে আসলেও তার ডাক্তারি কোন কাগজপত্র না থাকায় তা হয়নি। এবার আমরা বলার পরই তার কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে।


কুমারখালী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন, এবার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড যাচাই বাছাই এই তালিকায় রত্নার নাম নেই। সে আমাদের কাছে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আসেনি।


এ বিষয়ে কুমারখালী থানার (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অভাব-অনটন কারণেই রত্না খাতুন আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনা নিশ্চিত করেন‌।