যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ফ্রি ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি, বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানাবিধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার সূর্যোদয়ক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর ডায়াবেটিক ও ফিজিওথেরাপি সেন্টার (ডাঃ এম. আর. খান মেডিকেল সেন্টার)-এ দিনব্যাপী ফ্রি ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর শিক্ষা দর্শন: প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক ঐক্য আমাদের জাতীয় রাজনীতি ও মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। ৭ই নভেম্বরের মূল শিক্ষা হলো জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার। ইতিহাসের সঠিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রতি জোর দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংকটকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামনে এসে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত দিনগুলোতে ৭ই নভেম্বরকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হলেও নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।
আলোচনা সভায় যবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন দর্শন এবং মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। পরবর্তীতে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়।






















