Jashore , Saturday, 7 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে মহিলা পরিষদের নবগঠিত জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যশোরে পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভা যশোরে ১০৯তম মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লববার্ষিকী উদযাপিত ঐক্য নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ঝিকরগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ যশোরে মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দসহ আটক ২ ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তিই ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি: প্রতিমন্ত্রী অমিত যশোরে বস্তাবন্দি বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার; পরিচয় শনাক্ত আজ ঐতিহাসিক সেই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

ঐক্য নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, যারা জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই জনগণ দেশের পরাজিত শক্তিকে কখনো মাথা তুলতে দেবে না এবং জাতীয় ঐক্যকে বিভাজিত হতে দেবে না। তাই আসুন, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একাত্ম থাকি এবং দেশকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করি।

শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত র‍্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের বীরত্ব দেখে পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর সিপাহী-জনতা তাকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল। সিপাহী-জনতা অনুধাবন করেছিল যে, খালেদ মোশাররফ গংদের হাতে দেশ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অনিরাপদ। জিয়াউর রহমান দায়িত্ব পেয়ে বুঝেছিলেন যে বিপদ তাদের দ্বারাই, যারা যুদ্ধের সময় বন্ধুর ছদ্মবেশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সে কারণে তিনি আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সমগ্র জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো মেনে নিতে না পেরে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল।

তিনি বলেন, কোনো বহিঃশক্তির কাছে এ দেশের মানুষ মাথা নত করেনি। কিন্তু বর্তমানে লক্ষ্য করছি, সেই অর্জিত ঐক্যের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হটানোর জন্য যারা এক সাথে আন্দোলন করেছি, তাদের মধ্যে ফ্যাসিস্টের অনুচরেরা বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ প্রতি মুহূর্তে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই বিষধর সাপকে আর গর্ত থেকে মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না। জিয়াউর রহমানের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং সকল মত-পথের মানুষকে সাথে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শিকদার সালাউদ্দিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।

সমাবেশ শেষে অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক, সাবেক সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম এবং নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : One hour ago
11 Time View

ঐক্য নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম

Update Time : One hour ago

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, যারা জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই জনগণ দেশের পরাজিত শক্তিকে কখনো মাথা তুলতে দেবে না এবং জাতীয় ঐক্যকে বিভাজিত হতে দেবে না। তাই আসুন, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একাত্ম থাকি এবং দেশকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করি।

শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত র‍্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের বীরত্ব দেখে পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর সিপাহী-জনতা তাকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল। সিপাহী-জনতা অনুধাবন করেছিল যে, খালেদ মোশাররফ গংদের হাতে দেশ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অনিরাপদ। জিয়াউর রহমান দায়িত্ব পেয়ে বুঝেছিলেন যে বিপদ তাদের দ্বারাই, যারা যুদ্ধের সময় বন্ধুর ছদ্মবেশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সে কারণে তিনি আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সমগ্র জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো মেনে নিতে না পেরে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল।

তিনি বলেন, কোনো বহিঃশক্তির কাছে এ দেশের মানুষ মাথা নত করেনি। কিন্তু বর্তমানে লক্ষ্য করছি, সেই অর্জিত ঐক্যের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হটানোর জন্য যারা এক সাথে আন্দোলন করেছি, তাদের মধ্যে ফ্যাসিস্টের অনুচরেরা বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ প্রতি মুহূর্তে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই বিষধর সাপকে আর গর্ত থেকে মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না। জিয়াউর রহমানের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং সকল মত-পথের মানুষকে সাথে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শিকদার সালাউদ্দিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।

সমাবেশ শেষে অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক, সাবেক সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম এবং নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।