Jashore , Saturday, 7 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে মহিলা পরিষদের নবগঠিত জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যশোরে পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভা যশোরে ১০৯তম মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লববার্ষিকী উদযাপিত ঐক্য নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ঝিকরগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ যশোরে মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দসহ আটক ২ ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তিই ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি: প্রতিমন্ত্রী অমিত যশোরে বস্তাবন্দি বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার; পরিচয় শনাক্ত আজ ঐতিহাসিক সেই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

আজ ঐতিহাসিক সেই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার অভূতপূর্ব এক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা মোড় নেয় এবং দেশ ও জাতি পায় নতুন দিশা। দিনটিতে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ভেতরের ও বাইরের নানা অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের অস্থিরতা কাটিয়ে তিনি দেশকে এক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটিনাবলির ধারাবাহিকতায় সেনাবছরে এক অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ওই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তাঁর অনুসারী সেনাসদস্যদের নিয়ে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান।

অভ্যুত্থানের সূচনাতেই তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়। খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করেন, মন্ত্রিসভা বাতিল করেন এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসানো হয়।

তবে ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা জাসদ সমর্থিত ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ ও সর্বস্তরের জনতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৭ নভেম্বর সকালে রাজপথে নেমে আসে স্বতঃস্ফূর্ত জনতা। সিপাহী-জনতার সেই যৌথ বিপ্লবে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে খালেদ মোশাররফ ও তাঁর কয়েকজন অনুসারী প্রাণ হারান এবং অভূতপূর্ব এক জাতীয় সংহতির নজির গড়ে তুলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান।

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ দিনের বিস্তৃত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কর্মসূচির রুট সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানান, নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন অতিক্রম করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 8 Hours Ago
20 Time View

আজ ঐতিহাসিক সেই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

Update Time : 8 Hours Ago

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার অভূতপূর্ব এক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা মোড় নেয় এবং দেশ ও জাতি পায় নতুন দিশা। দিনটিতে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ভেতরের ও বাইরের নানা অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের অস্থিরতা কাটিয়ে তিনি দেশকে এক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটিনাবলির ধারাবাহিকতায় সেনাবছরে এক অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ওই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তাঁর অনুসারী সেনাসদস্যদের নিয়ে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান।

অভ্যুত্থানের সূচনাতেই তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়। খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করেন, মন্ত্রিসভা বাতিল করেন এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসানো হয়।

তবে ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা জাসদ সমর্থিত ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ ও সর্বস্তরের জনতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৭ নভেম্বর সকালে রাজপথে নেমে আসে স্বতঃস্ফূর্ত জনতা। সিপাহী-জনতার সেই যৌথ বিপ্লবে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে খালেদ মোশাররফ ও তাঁর কয়েকজন অনুসারী প্রাণ হারান এবং অভূতপূর্ব এক জাতীয় সংহতির নজির গড়ে তুলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান।

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ দিনের বিস্তৃত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কর্মসূচির রুট সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানান, নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন অতিক্রম করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।