Jashore , Friday, 6 November 2026
সর্বশেষ:
মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান ইশরাক হোসেনের ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক আগামী নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী যশোরে ইসলামী যুব আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও শপথ অনুষ্ঠিত বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের মাসিক সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শার্শায় ধানক্ষেত থেকে ওয়ান শুটার পিস্তল উদ্ধার জনগণকে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত যশোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার যশোরে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করলেন স্বামী তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় যশোরে দোয়া ও খাবার বিতরণ

৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক আগামী নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদ প্রণিধানযোগ্য— ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। সুতরাং, সারাবেলা ইতিহাস চর্চায় মশগুল থাকা সমীচীন নয়; একইভাবে ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল; ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে।

বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি পরবর্তীতে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে আবারও তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব বিনষ্ট করা হয়েছিল এবং জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। তবে হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ ও ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে।

১৯৭১, ১৯৭৫ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। যেভাবে ২০২৪ সালে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা রাজপথে নেমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

ভবিষ্যতে কেউ যেন আর দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে—এটিকে এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই সাথে এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫-এর সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান—প্রতিটি আন্দোলনের একই আকাঙ্ক্ষা ছিল: স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় এই ঐতিহাসিক দিনে তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—’দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : One hour ago
13 Time View

৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক আগামী নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : One hour ago

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদ প্রণিধানযোগ্য— ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। সুতরাং, সারাবেলা ইতিহাস চর্চায় মশগুল থাকা সমীচীন নয়; একইভাবে ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল; ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে।

বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি পরবর্তীতে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে আবারও তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব বিনষ্ট করা হয়েছিল এবং জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। তবে হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ ও ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে।

১৯৭১, ১৯৭৫ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। যেভাবে ২০২৪ সালে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা রাজপথে নেমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

ভবিষ্যতে কেউ যেন আর দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে—এটিকে এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই সাথে এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫-এর সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান—প্রতিটি আন্দোলনের একই আকাঙ্ক্ষা ছিল: স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় এই ঐতিহাসিক দিনে তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—’দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।