Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

ইউ এ ই র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র :- সন্দিহান অবস্থা ইরান-কাতার

অনলাইন ডেস্ক:- মঙ্গলগ্রহে একটি অনুসন্ধানী রকেট পাঠানোর দু-সপ্তাহের মধ্যে শনিবার তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চালুর পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যার-পর-নাই উচ্ছ্বসিত।বারাকা বাংলায় যার অর্থ আশীর্বাদ – মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ইউএই বলছে দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চারটি চুল্লিই চালু হওয়ার পর এখান থেকে ৫.৬ গিগা-ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা দিয়ে দেশের ২৫ শতাংশ চাহিদা মিটবে। কিন্তু ২০১২ সালে ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলারের এই প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর থেকেই এর যৌক্তিকতা, ঝুঁকি এবং উদ্দেশ্য নিয়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে তো বটেই, আন্তর্জাতিক মহলেও সন্দেহ-বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে কাতার এবং ইরানের গভীর সন্দেহ যে আমিরাতের মূল লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি। কারণ উপসাগরীয় এই দেশটি দিনকে দিন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতে যুক্ত হচ্ছে যার প্রমাণ লিবিয়া এবং ইয়েমেন। তীব্র আপত্তি কাতারের গত বছর কাতার জাতিসংঘ আণবিক সংস্থার (IAEA) কাছে লিখিত এক আপত্তি-পত্রে বারাকা পারমাণবিক স্থাপনাকে আঞ্চলিক শান্তি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি“ বলে বর্ণনা করে। কাতার বলে যে কোনো ধরণের দুর্ঘটনা হলে তেজস্ক্রিয় উপাদান ১৩ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রাজধানী দোহায় চলে আসবে। শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর এখনও কাতার বা ইরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি, কিন্তু তারা যে ক্ষোভে ফুটছে তা নিয়ে কারোরই সন্দেহ নেই। বারাকা পারমাণবিক প্রকল্পের ওপর শুরু থেকেই গভীর নজর রাখছেন পারমাণবিক শক্তি বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষ একজন বিশেষজ্ঞ পল ডর্ফম্যান। মার্চে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে তিনি লেখেন যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবেই কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দেয়। ডর্ফম্যান – যিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের একজন গবেষক এবং নিউক্লিয়ার কনসালটিং গ্রুপের (NCG) প্রধান – বলেন, “ইউএই-র এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীল একটি এলাকাকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে। পরিবেশের জন্য যেমন ঝুঁকি, তেমনি এই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা নতুন করে উস্কে দিতে পারে এটি।সামরিক অভিলাষ নেই‘ UAE এরই UAE অবশ্য জোর দিয়ে বলে যাচ্ছে, উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কোনো কারণ নেই, তারা শুধুই তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:47 pm, Monday, 3 August 2020
50 Time View

ইউ এ ই র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র :- সন্দিহান অবস্থা ইরান-কাতার

Update Time : 09:47 pm, Monday, 3 August 2020

অনলাইন ডেস্ক:- মঙ্গলগ্রহে একটি অনুসন্ধানী রকেট পাঠানোর দু-সপ্তাহের মধ্যে শনিবার তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চালুর পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যার-পর-নাই উচ্ছ্বসিত।বারাকা বাংলায় যার অর্থ আশীর্বাদ – মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ইউএই বলছে দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চারটি চুল্লিই চালু হওয়ার পর এখান থেকে ৫.৬ গিগা-ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা দিয়ে দেশের ২৫ শতাংশ চাহিদা মিটবে। কিন্তু ২০১২ সালে ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলারের এই প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর থেকেই এর যৌক্তিকতা, ঝুঁকি এবং উদ্দেশ্য নিয়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে তো বটেই, আন্তর্জাতিক মহলেও সন্দেহ-বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে কাতার এবং ইরানের গভীর সন্দেহ যে আমিরাতের মূল লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি। কারণ উপসাগরীয় এই দেশটি দিনকে দিন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতে যুক্ত হচ্ছে যার প্রমাণ লিবিয়া এবং ইয়েমেন। তীব্র আপত্তি কাতারের গত বছর কাতার জাতিসংঘ আণবিক সংস্থার (IAEA) কাছে লিখিত এক আপত্তি-পত্রে বারাকা পারমাণবিক স্থাপনাকে আঞ্চলিক শান্তি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি“ বলে বর্ণনা করে। কাতার বলে যে কোনো ধরণের দুর্ঘটনা হলে তেজস্ক্রিয় উপাদান ১৩ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রাজধানী দোহায় চলে আসবে। শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর এখনও কাতার বা ইরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি, কিন্তু তারা যে ক্ষোভে ফুটছে তা নিয়ে কারোরই সন্দেহ নেই। বারাকা পারমাণবিক প্রকল্পের ওপর শুরু থেকেই গভীর নজর রাখছেন পারমাণবিক শক্তি বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষ একজন বিশেষজ্ঞ পল ডর্ফম্যান। মার্চে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে তিনি লেখেন যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবেই কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দেয়। ডর্ফম্যান – যিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের একজন গবেষক এবং নিউক্লিয়ার কনসালটিং গ্রুপের (NCG) প্রধান – বলেন, “ইউএই-র এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীল একটি এলাকাকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে। পরিবেশের জন্য যেমন ঝুঁকি, তেমনি এই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা নতুন করে উস্কে দিতে পারে এটি।সামরিক অভিলাষ নেই‘ UAE এরই UAE অবশ্য জোর দিয়ে বলে যাচ্ছে, উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কোনো কারণ নেই, তারা শুধুই তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে।