Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: জ্বালানি সংকটের মুখে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল তেলের বাজারগুলোর মধ্যে অপর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থার কারণে ভারতই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়তে পারে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

এশিয়ার দুই শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীন ও ভারত তাদের মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। তবে মজুতের দিক থেকে প্রতিবেশী চীনের তুলনায় ভারত অনেক পিছিয়ে। পণ্য গবেষণা সংস্থা আইসিআইএস-এর জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, ‘চীনের হাতে অন্তত ছয় মাসের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। সে তুলনায় ভারতের মজুত অনেক কম, যা দেশটিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।’

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম মঙ্গলবার প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এই দামকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট তেল আমদানির ৫৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। ওয়াশিংটনের চাপে রুশ তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়ার পর ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভারতের এই নির্ভরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত মাসে ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ভারতের হাতে ৭৪ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। তবে রিফাইনিং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছিল, বর্তমানে ভারতের কাছে যে পরিমাণ মজুত আছে তা দিয়ে মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন চলা সম্ভব।

সম্ভাব্য এই সংকট মোকাবিলায় ভারত বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় রুশ তেল আমদানিতে আরোপিত ২৫ শতাংশ ট্যারিফ ছাড় দেবে কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার ট্রেজারি ও জ্বালানি বিভাগ থেকে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।

এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের চাহিদার যথাক্রমে ৯৫ ও ৭০ শতাংশ তেল এই অঞ্চল থেকে নিলেও তাদের মজুত ব্যবস্থা ভারতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। জাপানের হাতে ২৫৪ দিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে ২০৮ দিনের মজুত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় ক্রেতা না হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব তারা এড়াতে পারবে না। বিশেষ করে ইউরোপ বিমান চলাচলের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল সংকটে পড়তে পারে, কারণ তাদের মোট আমদানির ৪৫ শতাংশই আসে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:03 pm, Tuesday, 3 March 2026
62 Time View

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: জ্বালানি সংকটের মুখে ভারত

Update Time : 08:03 pm, Tuesday, 3 March 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল তেলের বাজারগুলোর মধ্যে অপর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থার কারণে ভারতই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়তে পারে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

এশিয়ার দুই শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীন ও ভারত তাদের মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। তবে মজুতের দিক থেকে প্রতিবেশী চীনের তুলনায় ভারত অনেক পিছিয়ে। পণ্য গবেষণা সংস্থা আইসিআইএস-এর জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, ‘চীনের হাতে অন্তত ছয় মাসের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। সে তুলনায় ভারতের মজুত অনেক কম, যা দেশটিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।’

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম মঙ্গলবার প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এই দামকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট তেল আমদানির ৫৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। ওয়াশিংটনের চাপে রুশ তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়ার পর ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভারতের এই নির্ভরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত মাসে ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ভারতের হাতে ৭৪ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। তবে রিফাইনিং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছিল, বর্তমানে ভারতের কাছে যে পরিমাণ মজুত আছে তা দিয়ে মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন চলা সম্ভব।

সম্ভাব্য এই সংকট মোকাবিলায় ভারত বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় রুশ তেল আমদানিতে আরোপিত ২৫ শতাংশ ট্যারিফ ছাড় দেবে কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার ট্রেজারি ও জ্বালানি বিভাগ থেকে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।

এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের চাহিদার যথাক্রমে ৯৫ ও ৭০ শতাংশ তেল এই অঞ্চল থেকে নিলেও তাদের মজুত ব্যবস্থা ভারতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। জাপানের হাতে ২৫৪ দিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে ২০৮ দিনের মজুত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় ক্রেতা না হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব তারা এড়াতে পারবে না। বিশেষ করে ইউরোপ বিমান চলাচলের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল সংকটে পড়তে পারে, কারণ তাদের মোট আমদানির ৪৫ শতাংশই আসে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে।