Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেছেন। ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, পাম বন্ডি একজন মহান আমেরিকান দেশপ্রেমিক এবং বিশ্বস্ত বন্ধু, যিনি গত এক বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে আমার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের দেশে অপরাধ দমনে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন, যার ফলে খুনের হার ১৯০০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা পামকে ভালোবাসি, এবং তিনি শিগগিরই বেসরকারি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন দায়িত্বে যোগ দেবেন, যা অদূর ভবিষ্যতে ঘোষণা করা হবে। আমাদের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অত্যন্ত দক্ষ ও সম্মানিত আইনজ্ঞ টড ব্লাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
বিচার বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ব্ল্যাঞ্চ এক পোস্টে বন্ডির ”নেতৃত্ব ও বন্ধুত্বের’ প্রশংসা করেন এবং ট্রাম্পকেও ধন্যবাদ জানান।

তিনি লিখেছেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও আস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব এবং আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত বন্ডি সম্প্রতি জেফরি এপস্টাইন-সম্পর্কিত নথি (এপস্টিন ফাইল) পরিচালনার কারণে বাড়তি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বিচার বিভাগ একাধিক বিতর্কিত ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে প্রসিকিউটররা ট্রাম্পের বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা সফলভাবে প্রমাণ করতে পারেননি।

দায়িত্বের শুরুতেই বন্ডি হোয়াইট হাউসে এপস্টিন ফাইল নিয়ে বৈঠক আয়োজন করে রিপাবলিকান সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেন, কারণ সেখানে মূলত আগেই প্রকাশিত তথ্যই তুলে ধরা হয়। পরে তিনি দাবি করেছিলেন যে এপস্টিনের একটি ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ তার কাছে রয়েছে, কিন্তু পরে বিচার বিভাগ তা অস্বীকার করে জানায়, এমন কোনো তালিকা নেই এবং প্রমাণ অনুযায়ী এপস্টিন আত্মহত্যা করেছিলেন। এমনকি ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস ও একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, বন্ডি বিষয়টি যথাযথভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ঘটনায় কংগ্রেসে দ্বিদলীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হাউস ওভারসাইট কমিটি বন্ডিকে তলব করেছে—যা পাঁচজন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পেয়েছে।

রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস বলেন, বন্ডি এপস্টিন ফাইল খুবই খারাপভাবে পরিচালনা করেছেন এবং এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষতি হয়েছে।

বন্ডির সময়ে বিচার বিভাগের অনেক কর্মকর্তা বরখাস্ত হন, যার মধ্যে ট্রাম্পবিরোধী তদন্তে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন। অনেক আইনজীবী পদত্যাগ করেন, অভিযোগ করে যে বিভাগের মূল লক্ষ্যই বদলে গেছে।

জাস্টিস কানেকশন নামের সাবেক ডিওজে কর্মকর্তাদের সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক স্টেসি ইয়ং বলেন, পাম বন্ডি বিচার বিভাগকে কার্যত ভেঙে ফেলেছেন। তার সময়ে বিভাগের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার অভিযোগ করেন, বন্ডি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে এবং মিত্রদের রক্ষা করতে।

তবে সব রিপাবলিকান নেতাই সমালোচনামুখর ছিলেন না। সিনেটর রিক স্কট বন্ডির প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি আমার দেখা সেরা আইনজীবীদের একজন এবং অসাধারণ কাজ করেছেন।’

এদিকে, কংগ্রেসে বন্ডির জবাবদিহিতা এখনো শেষ হয়নি। ১৪ এপ্রিল তাকে ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে হবে।

ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া অভিযোগ করেন, বন্ডি এপস্টিন ফাইল নিয়ে ‘হোয়াইট হাউসের গোপন তৎপরতা’ পরিচালনা করেছেন এবং এতে ভুক্তভোগীদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। তিনি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বন্ডি হলেন ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য যাকে তিনি বরখাস্ত করলেন। এর আগে গত মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম-কেও পদচ্যুত করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:59 pm, Friday, 3 April 2026
85 Time View

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বরখাস্ত

Update Time : 07:59 pm, Friday, 3 April 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেছেন। ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, পাম বন্ডি একজন মহান আমেরিকান দেশপ্রেমিক এবং বিশ্বস্ত বন্ধু, যিনি গত এক বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে আমার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের দেশে অপরাধ দমনে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন, যার ফলে খুনের হার ১৯০০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা পামকে ভালোবাসি, এবং তিনি শিগগিরই বেসরকারি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন দায়িত্বে যোগ দেবেন, যা অদূর ভবিষ্যতে ঘোষণা করা হবে। আমাদের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অত্যন্ত দক্ষ ও সম্মানিত আইনজ্ঞ টড ব্লাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
বিচার বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ব্ল্যাঞ্চ এক পোস্টে বন্ডির ”নেতৃত্ব ও বন্ধুত্বের’ প্রশংসা করেন এবং ট্রাম্পকেও ধন্যবাদ জানান।

তিনি লিখেছেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও আস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব এবং আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত বন্ডি সম্প্রতি জেফরি এপস্টাইন-সম্পর্কিত নথি (এপস্টিন ফাইল) পরিচালনার কারণে বাড়তি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বিচার বিভাগ একাধিক বিতর্কিত ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে প্রসিকিউটররা ট্রাম্পের বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা সফলভাবে প্রমাণ করতে পারেননি।

দায়িত্বের শুরুতেই বন্ডি হোয়াইট হাউসে এপস্টিন ফাইল নিয়ে বৈঠক আয়োজন করে রিপাবলিকান সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেন, কারণ সেখানে মূলত আগেই প্রকাশিত তথ্যই তুলে ধরা হয়। পরে তিনি দাবি করেছিলেন যে এপস্টিনের একটি ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ তার কাছে রয়েছে, কিন্তু পরে বিচার বিভাগ তা অস্বীকার করে জানায়, এমন কোনো তালিকা নেই এবং প্রমাণ অনুযায়ী এপস্টিন আত্মহত্যা করেছিলেন। এমনকি ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস ও একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, বন্ডি বিষয়টি যথাযথভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ঘটনায় কংগ্রেসে দ্বিদলীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হাউস ওভারসাইট কমিটি বন্ডিকে তলব করেছে—যা পাঁচজন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পেয়েছে।

রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস বলেন, বন্ডি এপস্টিন ফাইল খুবই খারাপভাবে পরিচালনা করেছেন এবং এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষতি হয়েছে।

বন্ডির সময়ে বিচার বিভাগের অনেক কর্মকর্তা বরখাস্ত হন, যার মধ্যে ট্রাম্পবিরোধী তদন্তে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন। অনেক আইনজীবী পদত্যাগ করেন, অভিযোগ করে যে বিভাগের মূল লক্ষ্যই বদলে গেছে।

জাস্টিস কানেকশন নামের সাবেক ডিওজে কর্মকর্তাদের সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক স্টেসি ইয়ং বলেন, পাম বন্ডি বিচার বিভাগকে কার্যত ভেঙে ফেলেছেন। তার সময়ে বিভাগের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার অভিযোগ করেন, বন্ডি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে এবং মিত্রদের রক্ষা করতে।

তবে সব রিপাবলিকান নেতাই সমালোচনামুখর ছিলেন না। সিনেটর রিক স্কট বন্ডির প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি আমার দেখা সেরা আইনজীবীদের একজন এবং অসাধারণ কাজ করেছেন।’

এদিকে, কংগ্রেসে বন্ডির জবাবদিহিতা এখনো শেষ হয়নি। ১৪ এপ্রিল তাকে ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে হবে।

ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া অভিযোগ করেন, বন্ডি এপস্টিন ফাইল নিয়ে ‘হোয়াইট হাউসের গোপন তৎপরতা’ পরিচালনা করেছেন এবং এতে ভুক্তভোগীদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। তিনি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বন্ডি হলেন ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য যাকে তিনি বরখাস্ত করলেন। এর আগে গত মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম-কেও পদচ্যুত করা হয়।