Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে ভারতের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টিভি নাইন বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে নিহত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিযুক্ত চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২ জুন পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম উল্লেখ না করলেও ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন।

সভায় মমতা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটি বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার আমার নেই, তবে হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর আমাদের এসটিএফ তাদের আটক করে। এটি পুলিশের সাফল্য।”

তিনি আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন। বক্তব্যে অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সব জানি।”

তবে দেশের স্বার্থ এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করছেন না বলেও জানান মমতা। তিনি বলেন, “আমি সেই নাম বলতে চাই না। বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম বলব না।”

এদিকে মমতার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এমন মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 02:46 pm, Thursday, 4 June 2026
61 Time View

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

Update Time : 02:46 pm, Thursday, 4 June 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে ভারতের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টিভি নাইন বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে নিহত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিযুক্ত চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২ জুন পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম উল্লেখ না করলেও ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন।

সভায় মমতা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটি বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার আমার নেই, তবে হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর আমাদের এসটিএফ তাদের আটক করে। এটি পুলিশের সাফল্য।”

তিনি আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন। বক্তব্যে অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সব জানি।”

তবে দেশের স্বার্থ এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করছেন না বলেও জানান মমতা। তিনি বলেন, “আমি সেই নাম বলতে চাই না। বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম বলব না।”

এদিকে মমতার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এমন মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।