যশোরে দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে জোরপূর্বক এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং রাজশাহী বোর্ডের এক নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রতিবাদসহ দুই দফা দাবিতে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরের পর যশোর প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে সেখান থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে শহরের দড়াটানার ভৈরব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে যশোর সরকারি সিটি কলেজ, সরকারি এম এম কলেজ, আলহেরা ডিগ্রি কলেজ, সরকারি শহীদ মশিয়ূর রহমান কলেজ, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিভিন্ন উপজেলা কলেজের শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ধোপরাকুল ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী দিশারানী মহন্ত দেশের বন্যাকবলিত প্রতিকূল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে গিয়ে তীব্র মানসিক চাপে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। এই আত্মহত্যার দায় শিক্ষা প্রশাসন এড়াতে পারে না। দিশারানীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিশাল একটি অংশ যখন বন্যাকবলিত, হাজার হাজার শিক্ষার্থী যখন আশ্রয়কেন্দ্রে বা পানিবন্দি অবস্থায় খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, তখন সবার জন্য সমান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া চরম অমানবিক ও বৈষম্যমূলক।
তারা আরও বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে দেশজুড়ে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে সমাবেশ চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যশোর প্রেসক্লাব ও দড়াটানা মোড় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করে রাজপথ ত্যাগ করেন।























