স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা উপস্থিত থাকায় অনুষ্ঠান বর্জন করেছে স্থানীয় বিএনপি। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে বিএনপিকে এ কঠিন সত্যটা মেনে নিতে হবে। যারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন তারা মানুষের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। মানুষের পছন্দের প্রতি আস্থা না থাকলে ১৭ বছর ধরে কিসের জন্য আন্দোলন করা হলো?
বুধবার সরাইল উপজেলা পরিষদের হলরুমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় বিএনপির কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, আট শতাধিক শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের বিনিময়ে যে অভ্যুত্থান হয়েছিল, আমরা কি সেই প্রত্যাশার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পেরেছি? এটি কেবল একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার বা নতুন সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরির আন্দোলন ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা ও হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান সফল না হলে আজকের এই স্বাধীন পরিবেশ সৃষ্টি হতো না।
ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দেশের নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দলগুলোর নিজস্ব অঙ্গসংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার ও তার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, আইন বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এখন কারো কণ্ঠ স্তব্ধ রাখা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার সময়ে তারেক রহমানের বক্তব্য আদালতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা আমরা মেনে নিইনি। এখন তার বক্তব্য বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তাও গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী হবে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মতামত দেন যে, দলীয় রাজনৈতিক ইতিহাস, পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও দেশের নাগরিক হিসেবে তার সাধারণ জ্ঞান বলে শেখ হাসিনা একসময় দেশে ফিরে আসবেন।
আলোচনা সভা শেষে রাজধানীর গ্রিন রোডে নিহত সরাইলের সন্তান শহীদ মোবারকের বাবা রমজান আলী এবং মেরুল বাড্ডায় আহত মো. ইয়াসিনসহ উপস্থিত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

Reporter Name 





















