Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

রমজানে ওএমএস কার্যক্রম বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হবে

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার// খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রম বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

রবিবার বিকেলে, সচিবালয়ে তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষ ব্রিফিংয়ে একথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে, মজুতদাররা যেন দাম নিয়ে কারসাজি করতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে বলে জানান তিনি।

প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পণ্যের ট্যাক্স, ভ্যাট কমানো বা বন্ধ রাখার বিষয়ে পরে আলোচনা করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কেউ অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি প্রক্রিয়ায় দাম নির্ধারণ হয়।

গত ২রা ফেব্রুয়ারি একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যেটা জানুয়ারি মাসের ৩০ দিনের গড় আমদানি মূল্যের ওপর করা হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক বাজারে আজকে যেটা বাড়ছে সেটা আজকে প্রভাবে ফেলছে, তা কিন্তু নয়।তিনি বলেন, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা কিন্তু কথাবার্তা বলেই দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি।

সেটার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে, আমরা কোথাও মজুতদারি করতে দেব না। কোনো সুযোগ নিতে দেব না।এ প্রসঙ্গে টিপু মুনশি আরও বলেন, এজন্য আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে যেখানে এ (অবৈধ মজুত) প্রচেষ্টা করা হবে, সেখানেই আমরা হস্তক্ষেপ করবো।

এমন না যে আজকে দাম বাড়ার কারণে তারা দাম বাড়িয়েছে, আসলে তারা আগের হিসাব ধরে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা সেটা বন্ধ করবো।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি মানুষকে ছয়টি পণ্য দেয়ার চেষ্টা করছি। এর কমপক্ষে চারটি পণ্য গ্রামাঞ্চলেও পাঠানো হবে। সে ব্যবস্থাও ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা শহরে ১৫ লাখ মানুষকে কীভাবে এ সেবা দেয়া যায় এবং তার যেন অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক মানুষ টিসিবির পণ্য পাচ্ছে না- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস বুঝতে হবে, যেখানে দেড়শ’ ট্রাক ছিলো সেখানে সাড়ে ৪০০ ট্রাক নিয়ে নেমেছি।

প্রতিদিন বা রাতারাতি তো বাড়ানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি আগামী রোজা সামনে রেখে এক কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেয়ার ব্যবস্থা করছি। মেশিন চাপলেই যে চলে আসবে, তা তো নয়। আমরা ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি। আলোচনা হয়েছে, প্রয়োজনে আমরা আরও ব্যবস্থা নেবো। পুরো বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, যা করণীয় আমরা করবো।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আরও বলেন, এ (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধুতা যেন প্রশ্রয় না পায়। এজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োজিত করে। আমরা দু-একদিনের মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করবো। যেন কেউ সুযোগটা না নিতে পারে।এর আগে, রবিবার বিকেল চারটার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সরকারের ৫ মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী জরুরি বৈঠকে বসেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।সম্প্রতি দেশে ভোজ্যতেল, ডাল, চাল, আটা, চিনি, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। অন্যদিকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান।

বাজার সংশ্লিষ্টসহ সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, রোজার মাসকে সামনে রেখে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তবে এর আগেই নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানতে চায় সরকার।’রমজানে ওএমএস কার্যক্রম বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:08 pm, Sunday, 13 March 2022
46 Time View

রমজানে ওএমএস কার্যক্রম বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হবে

Update Time : 09:08 pm, Sunday, 13 March 2022

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার// খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রম বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

রবিবার বিকেলে, সচিবালয়ে তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষ ব্রিফিংয়ে একথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে, মজুতদাররা যেন দাম নিয়ে কারসাজি করতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে বলে জানান তিনি।

প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পণ্যের ট্যাক্স, ভ্যাট কমানো বা বন্ধ রাখার বিষয়ে পরে আলোচনা করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কেউ অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি প্রক্রিয়ায় দাম নির্ধারণ হয়।

গত ২রা ফেব্রুয়ারি একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যেটা জানুয়ারি মাসের ৩০ দিনের গড় আমদানি মূল্যের ওপর করা হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক বাজারে আজকে যেটা বাড়ছে সেটা আজকে প্রভাবে ফেলছে, তা কিন্তু নয়।তিনি বলেন, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা কিন্তু কথাবার্তা বলেই দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি।

সেটার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে, আমরা কোথাও মজুতদারি করতে দেব না। কোনো সুযোগ নিতে দেব না।এ প্রসঙ্গে টিপু মুনশি আরও বলেন, এজন্য আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে যেখানে এ (অবৈধ মজুত) প্রচেষ্টা করা হবে, সেখানেই আমরা হস্তক্ষেপ করবো।

এমন না যে আজকে দাম বাড়ার কারণে তারা দাম বাড়িয়েছে, আসলে তারা আগের হিসাব ধরে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা সেটা বন্ধ করবো।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি মানুষকে ছয়টি পণ্য দেয়ার চেষ্টা করছি। এর কমপক্ষে চারটি পণ্য গ্রামাঞ্চলেও পাঠানো হবে। সে ব্যবস্থাও ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা শহরে ১৫ লাখ মানুষকে কীভাবে এ সেবা দেয়া যায় এবং তার যেন অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক মানুষ টিসিবির পণ্য পাচ্ছে না- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস বুঝতে হবে, যেখানে দেড়শ’ ট্রাক ছিলো সেখানে সাড়ে ৪০০ ট্রাক নিয়ে নেমেছি।

প্রতিদিন বা রাতারাতি তো বাড়ানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি আগামী রোজা সামনে রেখে এক কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেয়ার ব্যবস্থা করছি। মেশিন চাপলেই যে চলে আসবে, তা তো নয়। আমরা ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি। আলোচনা হয়েছে, প্রয়োজনে আমরা আরও ব্যবস্থা নেবো। পুরো বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, যা করণীয় আমরা করবো।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আরও বলেন, এ (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধুতা যেন প্রশ্রয় না পায়। এজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োজিত করে। আমরা দু-একদিনের মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করবো। যেন কেউ সুযোগটা না নিতে পারে।এর আগে, রবিবার বিকেল চারটার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সরকারের ৫ মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী জরুরি বৈঠকে বসেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।সম্প্রতি দেশে ভোজ্যতেল, ডাল, চাল, আটা, চিনি, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। অন্যদিকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান।

বাজার সংশ্লিষ্টসহ সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, রোজার মাসকে সামনে রেখে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তবে এর আগেই নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানতে চায় সরকার।’রমজানে ওএমএস কার্যক্রম বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হবে।