Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

আগাম শীতকালীন শাক সবজি চাষ করে বেশী মুনাফা আশা চাষীদের

কামরুজ্জামান সজীব ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:- মহামারী করোনার মহা বিপর্যয়ের মধ্যে এবার দেশে লম্বা সময়ের স্থায়ী বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি হিসাবেই বলা হচ্ছে।বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মাঝে বন্যায় তারা চরম অসহায় অবস্থায় আছেন।

এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই জমি চাষ করে লাউ, করলা, বেগুন, কচু কাকরোল, কপি,সিম,শাক সহ বিভিন্ন শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এসব সবজি আবাদ করতে অনেক চাষি অতিবৃষ্টির কারণে প্রচুর ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছে। জমি চাষাবাদ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় আবার ঝড় বৃষ্টি।

অতিবৃষ্টির কারণে কবি চাষীদের বেহাল দশা

এরই মধ্যে কৃষকেরা সবজি লাগানোর জন্য একের পর এক জমি চাষ করে যাচ্ছেন। একটু খড়া হলেই শুরু হয় জমি চাষের প্রক্রিয়া। বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে এভাবেই সবজি চাষ করার জন্য জমিকে উপযোগী করে তৈরি করছেন চাষিরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক মাসের মধ্যেই ক্ষেত থেকে উঠবে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন চাষি ও কৃষি বিভাগ এর ।

ভাসমান সবজি ক্ষেত মাঠিলা মাঠপাড়া বাপ্পি বিশ্বাসের এর

মহেশপুরে উপজেলা যাদবপুর ইউনিয়ন মাঠিলা গ্রামের সবজি চাষি বাপ্পী বিশ্বাস বলেন, দুর্যোগ যখন আসে চতুর্দিক থেকেই আসে। একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাস অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগাম সবজি চাষ করতে পারছিনা আমরা। এবার করতে যেও বা গেলাম অনেক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল বেগুন চাষ করতে প্রায় ২ লক্ষ টাকার মতো। অন্যদিকে, কচু চাষ করে তা আবার বিক্রি হচ্ছে না। প্রচুর বিপাকে আছি আমরা। এখন পর্যন্ত এতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়়েও কোন সরকারী অনুদান আমরা পাইনি । মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে জীবনকে বাঁচাতে যেভাবে যুদ্ধ করতে হচ্ছে । ঠিক সেভাবেই আগাম সবজি চাষ করার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-বৃষ্টি সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। করোনার কারণে অনেক জেলার বেকার যুবকরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে নেমে পড়েছেন সবজি চাষে।

কপি চাষী


আর এক কৃষক আলম মিয়া বলেন, আবহাওয়া ভালো থাক আর না থাক তারপরও আগাম সবজি চাষ করতে পিছপা হননি সবজি চাষিরা। বর্তমানে বাজারে কম পাওয়া গেলেও মাসখানেকের মধ্যে সবজিতে ভরপুর হবে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলো। দাম কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নেবেন শীতকালীন আগাম শাকসবজির।

বাপ্পি বিশ্বাস এর ভাসমান বীজতলা ঝিনাইদাহ মহেশপুর মাটির মাঠপাড়া

মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের পাকরাইল গ্রামের সবজি চাষি মোস্তাফিজুর বলেন, ঝড় বৃষ্টির কারণে অনেকে সবজি চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। গতবারে যে চাষি ১০ বিঘা সবজি চাষ করেছিলেন এবারে তা কমে এসেছে ছয় থেকে সাত বিঘায়। টানা বৃষ্টির কারণে অনেকেই জমিতে পানি থাকার কারণে সবজি চাষ করতে পারেন না । এবার সবজি চাষে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দাম ভাল পাবো বলে আশা করছি।


কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, গতবারের তুলনায় এবারে জেলায় কম সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। গতবারে জেলায় আট হাজার পাঁচশ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছিল। টানা ঝড় বৃষ্টির কারণে এবার হয়েছে সাত হাজার হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হবে দুই লাখ মেট্রিক টন শাক-সবজি।

চিচিঙ্গা ও শসা চাষ।

চুয়াডাঙ্গায় জেলার জীবননগর উপজেলা খয়েরহুদা গ্রামের চাঁন মিয়া বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির বাম্পার ফলন হবে। আমাদের উত্তর বঙ্গের মাটি বেঁশ উর্বর ও আঠালো তাই ফলন বেশি হয়। এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন চাষীরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 03:45 pm, Tuesday, 8 September 2020
37 Time View

আগাম শীতকালীন শাক সবজি চাষ করে বেশী মুনাফা আশা চাষীদের

Update Time : 03:45 pm, Tuesday, 8 September 2020

কামরুজ্জামান সজীব ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:- মহামারী করোনার মহা বিপর্যয়ের মধ্যে এবার দেশে লম্বা সময়ের স্থায়ী বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি হিসাবেই বলা হচ্ছে।বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মাঝে বন্যায় তারা চরম অসহায় অবস্থায় আছেন।

এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই জমি চাষ করে লাউ, করলা, বেগুন, কচু কাকরোল, কপি,সিম,শাক সহ বিভিন্ন শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এসব সবজি আবাদ করতে অনেক চাষি অতিবৃষ্টির কারণে প্রচুর ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছে। জমি চাষাবাদ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় আবার ঝড় বৃষ্টি।

অতিবৃষ্টির কারণে কবি চাষীদের বেহাল দশা

এরই মধ্যে কৃষকেরা সবজি লাগানোর জন্য একের পর এক জমি চাষ করে যাচ্ছেন। একটু খড়া হলেই শুরু হয় জমি চাষের প্রক্রিয়া। বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে এভাবেই সবজি চাষ করার জন্য জমিকে উপযোগী করে তৈরি করছেন চাষিরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক মাসের মধ্যেই ক্ষেত থেকে উঠবে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন চাষি ও কৃষি বিভাগ এর ।

ভাসমান সবজি ক্ষেত মাঠিলা মাঠপাড়া বাপ্পি বিশ্বাসের এর

মহেশপুরে উপজেলা যাদবপুর ইউনিয়ন মাঠিলা গ্রামের সবজি চাষি বাপ্পী বিশ্বাস বলেন, দুর্যোগ যখন আসে চতুর্দিক থেকেই আসে। একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাস অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগাম সবজি চাষ করতে পারছিনা আমরা। এবার করতে যেও বা গেলাম অনেক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল বেগুন চাষ করতে প্রায় ২ লক্ষ টাকার মতো। অন্যদিকে, কচু চাষ করে তা আবার বিক্রি হচ্ছে না। প্রচুর বিপাকে আছি আমরা। এখন পর্যন্ত এতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়়েও কোন সরকারী অনুদান আমরা পাইনি । মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে জীবনকে বাঁচাতে যেভাবে যুদ্ধ করতে হচ্ছে । ঠিক সেভাবেই আগাম সবজি চাষ করার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-বৃষ্টি সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। করোনার কারণে অনেক জেলার বেকার যুবকরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে নেমে পড়েছেন সবজি চাষে।

কপি চাষী


আর এক কৃষক আলম মিয়া বলেন, আবহাওয়া ভালো থাক আর না থাক তারপরও আগাম সবজি চাষ করতে পিছপা হননি সবজি চাষিরা। বর্তমানে বাজারে কম পাওয়া গেলেও মাসখানেকের মধ্যে সবজিতে ভরপুর হবে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলো। দাম কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নেবেন শীতকালীন আগাম শাকসবজির।

বাপ্পি বিশ্বাস এর ভাসমান বীজতলা ঝিনাইদাহ মহেশপুর মাটির মাঠপাড়া

মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের পাকরাইল গ্রামের সবজি চাষি মোস্তাফিজুর বলেন, ঝড় বৃষ্টির কারণে অনেকে সবজি চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। গতবারে যে চাষি ১০ বিঘা সবজি চাষ করেছিলেন এবারে তা কমে এসেছে ছয় থেকে সাত বিঘায়। টানা বৃষ্টির কারণে অনেকেই জমিতে পানি থাকার কারণে সবজি চাষ করতে পারেন না । এবার সবজি চাষে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দাম ভাল পাবো বলে আশা করছি।


কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, গতবারের তুলনায় এবারে জেলায় কম সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। গতবারে জেলায় আট হাজার পাঁচশ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছিল। টানা ঝড় বৃষ্টির কারণে এবার হয়েছে সাত হাজার হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হবে দুই লাখ মেট্রিক টন শাক-সবজি।

চিচিঙ্গা ও শসা চাষ।

চুয়াডাঙ্গায় জেলার জীবননগর উপজেলা খয়েরহুদা গ্রামের চাঁন মিয়া বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির বাম্পার ফলন হবে। আমাদের উত্তর বঙ্গের মাটি বেঁশ উর্বর ও আঠালো তাই ফলন বেশি হয়। এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন চাষীরা।