ভারত গেল ১৭৪ টন ইলিশ৩ দিনে বেনাপোল দিয়ে
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত তিনদিনে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ১৭৪ মেট্রিক টন। এবার ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে মোট তিন হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন।
জানা যায়, আগামী ২০ অক্টোবর শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আর এ পূজা উৎসবে পশ্চিম বাংলার মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এপারের (বাংলাদেশ) পদ্মার ইলিশ। সারাবছর ধরে তারা অপেক্ষায় থাকে পূজার সময় বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসবে। আর তারা অতিথি আপ্যায়নে ইলিশের বিভিন্ন পদ তুলে দেবেন প্লেটে।
পেট্রাপোল চেকপোস্টের আমদানিকারক রামকৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই কিছু কিছু করে আসতে থাকবে বাংলাদেশের ইলিশ। অবশেষে ইলিশ যে এসে পৌঁছেছে এটাই আনন্দের। গতবারও ইলিশ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এবার কিছুটা দেরিতে হলেও বাঙালি এই মাছ পাবে। পূজার আগে এর থেকে বড় সুখবর আর কী বা হতে পারে। এজন্য শেখ হাসিনা সরকারকে অভিনন্দন জানাই।
ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ায় সরকার ২০১২ সাল থেকে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে করে ছয় বছর ধরে ইলিশ ছাড়ায় পূজা পার করে পশ্চিম বাংলার মানুষ। অবশেষে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২০১৯ সাল থেকে পূজা উপলক্ষে আবারও নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করে আসছে। এ বছর পূজায় ৩ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত তিনদিনে ১৭৩ মেট্রিক টন ৭০০ কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৭৭ মেট্রিক টন ১০০ কেজি, শনিবার ৪০ মেট্রিক টন ১০০ কেজি এবং সোমবার ৫৬ মেট্রিক টন ৫০০ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইলিশ রপ্তানিতে সংকটের দোহায় দিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরের বিভিন্ন বাজারে কেজিতে ইলিশের দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে পছন্দের এ মাছটি কিনতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের সাধারণ ক্রেতারা।
বেনাপোল মৎস্য অফিসের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার থেকে সরকারের বিশেষ অনুমতির ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়েছে। গত তিনদিনে (বৃহস্পতিবার, শনিবার ও সোমবার) ১৭৩ মেট্রিক টন ৭০০ কেজি ইলিশ ভারতে গেছে। বাকি ইলিশ আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি শেষ করবে দেশের ৭৯টি ইলিশ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।


























