Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

প্রকল্প অনুমোদনের হিড়িক শেষ সময়ে

একনেকে উঠছে রেকর্ড ৮২টি প্রকল্প

মানিক মিয়া :- জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকল্প অনুমোদনের হিড়িক পড়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে ৮২ উন্নয়ন প্রকল্প, যা এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর সর্বোচ্চ ৩৮ প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।

ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এমপি-মন্ত্রীদের চাপে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক কালবেলাকে বলেন, নির্বাচনের আগে ভোটারদের সন্তুষ্ট করার বিষয় থাকে। এ সময়ে এমপি-মন্ত্রীরা উন্নয়ন দেখাতে চান। এজন্য হয়তো বেশি সংখ্যক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে এবং চলমান সংকটের সময়ে এটা করা ঠিক হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আহসান এইচ মনসুর বলেন, এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব পড়বে। কারণ, সরকারের কাছে টাকা নেই। নির্বাচনের আগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় তৈরি হবে দীর্ঘসূত্রতা। এতে অর্থ অপচয় হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মন্ত্রী ও এমপিদের অনুরোধের কিছু প্রকল্প আছে। তারা অনুরোধ করতে পারেন, এটা দোষের নয়। এলাকার উন্নয়নের জন্য তারা এমনটি করে থাকেন। এতে ব্যক্তি স্বার্থ থাকে না। জনগণের জন্য এটা করা হয়।

জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার চলতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পঞ্চম সভা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। ওই সভায় উপস্থাপনের জন্য ৮২টি প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে ৪৪টি নতুন ও সংশোধিত এবং ছয়টি মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত ৩২টি প্রস্তাব একনেক সভাকে অবহিত করতে উপস্থাপন করা হবে।

অনুমোদনের জন্য এক সভায় এত সংখ্যক প্রকল্প এর আগে কখনো উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে চাপে রয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পগুলো প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারা। দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক কালবেলাকে জানান, বিভিন্ন বিভাগে অনেক প্রকল্প প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কিছু প্রকল্পে সংশোধন রয়েছে। এগুলো অনুমোদর না হলে অর্থছাড় করা সম্ভব নয়। নিয়মিত একনেক না হওয়ায় প্রস্তাবগুলো জমা হয়ে গেছে। এ ছাড়া নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বেশি একনেক সভা হওয়ার সুযোগ নেই। হয়তো এটাই বর্তমান সরকারের শেষ সভা। তাই একসঙ্গে এত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় একনেকে উপস্থাপন করা প্রকল্প প্রস্তাবগুলোর বেশিরভাগই হবে স্থানীয় সরকার বিভাগের। এই বিভাগের আটটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাতটি প্রকল্প প্রস্তাব। সড়ক পরিবহন ও মন্ত্রণালয়ের রয়েছে দুটি প্রকল্প। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পাঁচ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চারটিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের একাধিক প্রকল্প রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 10:14 am, Monday, 30 October 2023
31 Time View

প্রকল্প অনুমোদনের হিড়িক শেষ সময়ে

Update Time : 10:14 am, Monday, 30 October 2023

একনেকে উঠছে রেকর্ড ৮২টি প্রকল্প

মানিক মিয়া :- জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকল্প অনুমোদনের হিড়িক পড়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে ৮২ উন্নয়ন প্রকল্প, যা এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর সর্বোচ্চ ৩৮ প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।

ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এমপি-মন্ত্রীদের চাপে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক কালবেলাকে বলেন, নির্বাচনের আগে ভোটারদের সন্তুষ্ট করার বিষয় থাকে। এ সময়ে এমপি-মন্ত্রীরা উন্নয়ন দেখাতে চান। এজন্য হয়তো বেশি সংখ্যক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে এবং চলমান সংকটের সময়ে এটা করা ঠিক হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আহসান এইচ মনসুর বলেন, এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব পড়বে। কারণ, সরকারের কাছে টাকা নেই। নির্বাচনের আগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় তৈরি হবে দীর্ঘসূত্রতা। এতে অর্থ অপচয় হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মন্ত্রী ও এমপিদের অনুরোধের কিছু প্রকল্প আছে। তারা অনুরোধ করতে পারেন, এটা দোষের নয়। এলাকার উন্নয়নের জন্য তারা এমনটি করে থাকেন। এতে ব্যক্তি স্বার্থ থাকে না। জনগণের জন্য এটা করা হয়।

জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার চলতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পঞ্চম সভা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। ওই সভায় উপস্থাপনের জন্য ৮২টি প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে ৪৪টি নতুন ও সংশোধিত এবং ছয়টি মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত ৩২টি প্রস্তাব একনেক সভাকে অবহিত করতে উপস্থাপন করা হবে।

অনুমোদনের জন্য এক সভায় এত সংখ্যক প্রকল্প এর আগে কখনো উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে চাপে রয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পগুলো প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারা। দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক কালবেলাকে জানান, বিভিন্ন বিভাগে অনেক প্রকল্প প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কিছু প্রকল্পে সংশোধন রয়েছে। এগুলো অনুমোদর না হলে অর্থছাড় করা সম্ভব নয়। নিয়মিত একনেক না হওয়ায় প্রস্তাবগুলো জমা হয়ে গেছে। এ ছাড়া নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বেশি একনেক সভা হওয়ার সুযোগ নেই। হয়তো এটাই বর্তমান সরকারের শেষ সভা। তাই একসঙ্গে এত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় একনেকে উপস্থাপন করা প্রকল্প প্রস্তাবগুলোর বেশিরভাগই হবে স্থানীয় সরকার বিভাগের। এই বিভাগের আটটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাতটি প্রকল্প প্রস্তাব। সড়ক পরিবহন ও মন্ত্রণালয়ের রয়েছে দুটি প্রকল্প। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পাঁচ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চারটিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের একাধিক প্রকল্প রয়েছে।