Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ডা. মিলন হত্যার বিচার হয়নি!

মানিক স্টাফ রিপোর্টার:- দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ডা. মিলন হত্যার বিচার হয়নি, সাড়া মেলেনি পুনঃতদন্তের আবেদনের।

গণমুখী স্বাস্থ্যসেবা গড়তে নাম লেখান সমাজ বদলের রাজনীতিতে। চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ রুখতে যোগ দেন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। বারবার হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিয়েও তাঁকে দমাতে পারেনি সরকার।

বরং প্রতিবারই বিপুল উদ্যমে ফিরে এসে শামিল হন জনতার কাতারে। অঙ্গীকারের প্রতি ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তাই কাল হয়ে ওঠে।

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর এদিনে স্বৈরাচারের গুন্ডাবাহিনীর নির্ভুল বুলেট খুঁজে নেয় ডা. শামসুল আলম খান মিলনকে। তাঁর রক্তের স্রোতে এরশাদের পতন হলেও আজও নিশ্চিত হয়নি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা।অগ্নিগর্ভ নব্বই। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দেশ।

এরশাদের লেলিয়ে দেয়া গুন্ডাবাহিনীর বুলেটে নিহত হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ও বিএমর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আলম খান মিলন।

তাঁর রক্তদানের মধ্য দিয়ে নতুন গতিবেগ সঞ্চার হয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। মিলনের মৃত্যুর এক সপ্তার মাথায় গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে স্বৈরশাসনের।কিন্তু তরুণ চিকিৎসক মিলনকে কেন টার্গেট করেছিল সামরিক সরকার?

ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, তাঁকে অনেকবার সরকারি দলে যোগ দেয়ার জন্য বলা হলেও সে তা গ্রহণ করেনি। রংপুরে কোন পোস্ট নেই,তারপরও তাকে রংপুরে পোস্ট দেয়া হয়েছে। তাকে চাকরি থেকে একবার বরখাস্তও করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় তাকে সরকারের নির্যাতনমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছিল।

ডা. শামসুল আলম খান মিলন হত্যা মামলার বাদী ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এরশাদ চেয়েছিল এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দোষ ছাত্রদের উপর চাপাবে। সে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ডেকে কারফিউ জারি করার কথাও বলেছে। তার মানে এটি একটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে মিলন হত্যার দায়সারা তদন্তের কারণে সাজা হয়নি হত্যাকারী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের।

এমনকি আজও সাড়া মেলেনি পুনঃতদন্তের আবেদনেও। করোনভাইরাস মহামারীকালে ডা. মিলনের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লড়াই আজও প্রাসঙ্গিক। ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, এই করোনাকালে আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে আমাদের স্বাস্থ্যখাতটা কতটা নাজুক।

কিন্তু মিলনের স্বপ্ন এটা ছিল না। তার স্বপ্ন ছিল গরীব মানুষের দ্বারে দ্বারে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া।ডা. মিলনের মা বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র এবং গণমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল তার সন্তানের রক্তদান স্বার্থক হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:18 am, Friday, 27 November 2020
27 Time View

৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ডা. মিলন হত্যার বিচার হয়নি!

Update Time : 09:18 am, Friday, 27 November 2020

মানিক স্টাফ রিপোর্টার:- দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ডা. মিলন হত্যার বিচার হয়নি, সাড়া মেলেনি পুনঃতদন্তের আবেদনের।

গণমুখী স্বাস্থ্যসেবা গড়তে নাম লেখান সমাজ বদলের রাজনীতিতে। চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ রুখতে যোগ দেন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। বারবার হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিয়েও তাঁকে দমাতে পারেনি সরকার।

বরং প্রতিবারই বিপুল উদ্যমে ফিরে এসে শামিল হন জনতার কাতারে। অঙ্গীকারের প্রতি ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তাই কাল হয়ে ওঠে।

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর এদিনে স্বৈরাচারের গুন্ডাবাহিনীর নির্ভুল বুলেট খুঁজে নেয় ডা. শামসুল আলম খান মিলনকে। তাঁর রক্তের স্রোতে এরশাদের পতন হলেও আজও নিশ্চিত হয়নি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা।অগ্নিগর্ভ নব্বই। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দেশ।

এরশাদের লেলিয়ে দেয়া গুন্ডাবাহিনীর বুলেটে নিহত হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ও বিএমর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আলম খান মিলন।

তাঁর রক্তদানের মধ্য দিয়ে নতুন গতিবেগ সঞ্চার হয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। মিলনের মৃত্যুর এক সপ্তার মাথায় গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে স্বৈরশাসনের।কিন্তু তরুণ চিকিৎসক মিলনকে কেন টার্গেট করেছিল সামরিক সরকার?

ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, তাঁকে অনেকবার সরকারি দলে যোগ দেয়ার জন্য বলা হলেও সে তা গ্রহণ করেনি। রংপুরে কোন পোস্ট নেই,তারপরও তাকে রংপুরে পোস্ট দেয়া হয়েছে। তাকে চাকরি থেকে একবার বরখাস্তও করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় তাকে সরকারের নির্যাতনমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছিল।

ডা. শামসুল আলম খান মিলন হত্যা মামলার বাদী ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এরশাদ চেয়েছিল এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দোষ ছাত্রদের উপর চাপাবে। সে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ডেকে কারফিউ জারি করার কথাও বলেছে। তার মানে এটি একটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে মিলন হত্যার দায়সারা তদন্তের কারণে সাজা হয়নি হত্যাকারী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের।

এমনকি আজও সাড়া মেলেনি পুনঃতদন্তের আবেদনেও। করোনভাইরাস মহামারীকালে ডা. মিলনের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লড়াই আজও প্রাসঙ্গিক। ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, এই করোনাকালে আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে আমাদের স্বাস্থ্যখাতটা কতটা নাজুক।

কিন্তু মিলনের স্বপ্ন এটা ছিল না। তার স্বপ্ন ছিল গরীব মানুষের দ্বারে দ্বারে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া।ডা. মিলনের মা বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র এবং গণমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল তার সন্তানের রক্তদান স্বার্থক হবে।