Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশের

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর সুযোগও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন প্রণোদনা সম্পর্কে তুরস্ককে অবহিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের দেশের বেসরকারি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সরকারের সমর্থনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে কাজে লাগিয়ে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ শিল্প, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তি এবং দুই দেশের মধ্যে ছাত্র বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ সংকট সমাধানে তুরস্কের মানবিক ও কূটনৈতিক সহায়তার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাবে। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:24 pm, Friday, 5 June 2026
62 Time View

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশের

Update Time : 07:24 pm, Friday, 5 June 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর সুযোগও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন প্রণোদনা সম্পর্কে তুরস্ককে অবহিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের দেশের বেসরকারি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সরকারের সমর্থনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে কাজে লাগিয়ে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ শিল্প, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তি এবং দুই দেশের মধ্যে ছাত্র বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ সংকট সমাধানে তুরস্কের মানবিক ও কূটনৈতিক সহায়তার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাবে। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।