Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

তিস্তা ও নদী ব্যবস্থাপনায় একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ ও চীন

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও চীন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের নদীগুলোর ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থা এবং নৌ-নেভিগেশনের উন্নয়নে চীনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা খ্যাত ‘তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা’ (তিস্তা রিভার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট) বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন এবং বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বলেন, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাপকভিত্তিক নদী খনন (ড্রেজিং) কর্মসূচি চলছে। বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্য সংকট দূর করতে এবং সামগ্রিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

তিনি উল্লেখ করেন, পানি ব্যবস্থাপনায় চীন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে এবং বাংলাদেশ চাইলে চীনের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারে। একই সাথে বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং এই খাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চীনে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

উচ্চপর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে এবং দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:34 pm, Thursday, 25 June 2026
80 Time View

তিস্তা ও নদী ব্যবস্থাপনায় একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ ও চীন

Update Time : 06:34 pm, Thursday, 25 June 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও চীন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের নদীগুলোর ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থা এবং নৌ-নেভিগেশনের উন্নয়নে চীনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা খ্যাত ‘তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা’ (তিস্তা রিভার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট) বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন এবং বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বলেন, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাপকভিত্তিক নদী খনন (ড্রেজিং) কর্মসূচি চলছে। বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্য সংকট দূর করতে এবং সামগ্রিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

তিনি উল্লেখ করেন, পানি ব্যবস্থাপনায় চীন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে এবং বাংলাদেশ চাইলে চীনের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারে। একই সাথে বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং এই খাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চীনে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

উচ্চপর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে এবং দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।