Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ আন্তঃদেশীয় গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসী চোরাচালান দমন, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি জানান, আইনে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার বিধান আরও জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি বজায় রাখা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সভায় নতুন আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আইনটি সম্পর্কে অভিন্ন ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

বক্তারা বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসন দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তাই এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা ও প্রধান বিধান তুলে ধরেন। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 01:22 pm, Wednesday, 15 July 2026
64 Time View

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন

Update Time : 01:22 pm, Wednesday, 15 July 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ আন্তঃদেশীয় গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসী চোরাচালান দমন, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি জানান, আইনে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার বিধান আরও জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি বজায় রাখা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সভায় নতুন আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আইনটি সম্পর্কে অভিন্ন ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

বক্তারা বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসন দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তাই এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা ও প্রধান বিধান তুলে ধরেন। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।