Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

তুরস্ক-সৌদি আমাদের বন্ধু, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আস্থা রয়েছে: ইরানি রাষ্ট্রদূত

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে ইরানের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী। তিনি বলেছেন, আমরা সৌদি আরবকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই না। আমরা জানি, এই যুদ্ধে আমরা কেবল আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। বাংলাদেশ সরকারের একটি চমৎকার ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা চিন্তিত নই এবং বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা মনে করি না যে মক্কা চুক্তি আমাদের দুই দেশের (ইরান ও বাংলাদেশ) সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে দুর্বলতা, তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মক্কা প্যাক্ট এমন এক সময়ে তৈরি হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজের এবং তার মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে বার্তা দিয়ে এসেছে—তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি করতে দিতে এবং নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে।

ইরানকে আক্রমণ করার পেছনের মার্কিন উদ্দেশ্য তুলে ধরে জাহানাবাদী বলেন, ইরানের শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন, ভূখণ্ড দখল, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করার অজুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালিয়েছিল। এমনকি হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ফলে আমার দৃষ্টিতে, মক্কা চুক্তি আমেরিকার কৌশলগত ব্যর্থতারই এক অনন্য মূর্ত প্রতীক।

মক্কা প্যাক্টে ইরান যোগ দেবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, আমরা নিজে থেকে এতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিইনি। তবে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা বহু বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কি তা সমর্থন করেছিল? আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু সে সময় আরব দেশগুলো তা সমর্থন করেনি, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রই তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারবে।

বর্তমানে আরব বিশ্বের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, আজকে আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে—বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র কি প্রকৃত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে? তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গেছে এবং মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করেছে, আমেরিকা কি সেগুলো থামাতে সক্ষম হয়েছে?

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 05:45 pm, Wednesday, 2 September 2026
38 Time View

তুরস্ক-সৌদি আমাদের বন্ধু, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আস্থা রয়েছে: ইরানি রাষ্ট্রদূত

Update Time : 05:45 pm, Wednesday, 2 September 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে ইরানের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী। তিনি বলেছেন, আমরা সৌদি আরবকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই না। আমরা জানি, এই যুদ্ধে আমরা কেবল আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। বাংলাদেশ সরকারের একটি চমৎকার ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা চিন্তিত নই এবং বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা মনে করি না যে মক্কা চুক্তি আমাদের দুই দেশের (ইরান ও বাংলাদেশ) সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে দুর্বলতা, তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মক্কা প্যাক্ট এমন এক সময়ে তৈরি হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজের এবং তার মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে বার্তা দিয়ে এসেছে—তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি করতে দিতে এবং নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে।

ইরানকে আক্রমণ করার পেছনের মার্কিন উদ্দেশ্য তুলে ধরে জাহানাবাদী বলেন, ইরানের শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন, ভূখণ্ড দখল, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করার অজুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালিয়েছিল। এমনকি হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ফলে আমার দৃষ্টিতে, মক্কা চুক্তি আমেরিকার কৌশলগত ব্যর্থতারই এক অনন্য মূর্ত প্রতীক।

মক্কা প্যাক্টে ইরান যোগ দেবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, আমরা নিজে থেকে এতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিইনি। তবে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা বহু বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কি তা সমর্থন করেছিল? আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু সে সময় আরব দেশগুলো তা সমর্থন করেনি, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রই তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারবে।

বর্তমানে আরব বিশ্বের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, আজকে আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে—বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র কি প্রকৃত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে? তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গেছে এবং মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করেছে, আমেরিকা কি সেগুলো থামাতে সক্ষম হয়েছে?