Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

ক্যান্সার দিবস প্রতি বছর দেশে ক্যান্সারে মারা যায় এক লাখ মানুষ

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:- দেশে প্রতি বছর ক্যান্সারে মারা যায় এক লাখ মানুষ। ব্যবস্থা কম থাকায় দেরিতে শনাক্ত হচ্ছে ক্যান্সার।সচেতনতার অভাব যেমন আছে, তেমনি শনাক্তের ব্যবস্থাও কম।

এ কারণে দেরিতে শনাক্ত হচ্ছে ক্যান্সার। এতে ব্যাহত হচ্ছে রোগীর চিকিৎসা। গবেষণা বলছে, প্রতিবছর আক্রান্তদের অর্ধেকরই ক্যান্সার শনাক্ত হয় একেবারে শেষ মুহূর্তে। এছাড়া, আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের কারণে চিকিৎসার বাইরে থাকছে বড় অংশ। এই বাস্তবতায় সারাবিশ্বের মতো দেশেও পালিত হচ্ছে ক্যান্সার দিবস।পাঁচ বছর ধরে পায়ুপথের সমস্যায় ভুগছেন সেলিনা বেগম।

প্রথম বছর নিয়েছেন কবিরাজী চিকিৎসা। পরের বছর ভুল চিকিৎসার শিকার। শেষমেষ দু’হাজার ঊনিশে ধরা পড়ে ক্যান্সার।আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবো ক্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন দেড় লাখ মানুষ, যার অর্ধেকই থাকছেন চিকিৎসার বাইরে।

আর বছরে মারা যান প্রায় এক লাখ মানুষ।জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রথমত হচ্ছে কোন ইন্সুরেন্স এর ব্যবস্থা নাই কারণ আপনি বেকার। দ্বিতীয়ত হচ্ছে ক্যান্সার সম্পর্ক ধারণা নেই। তৃতীয়ত হচ্ছে আমরা সচেতন না যে আমাদের মুখে একটা ঘা হয়েছে এটা একজন ডেন্টিস্টকে দেখাবো। এর কারণে এটা নির্ণয়ে দেরি হচ্ছে। আর দেরির ফলে আর্থিক ব্যয়ও বেড়ে যায়। চিকিৎসার ফলাফলও দুর্বল হয়ে যায়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ রেডিওথেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, থানা বা জেলা পর্যায়ে ক্যান্সার পরীক্ষার তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নেই। স্যাম্পল নিয়ে পুরাতন হাসপাতালগুলোতে গিয়ে পরীক্ষা করা ছাড়া বা বায়োপসি টেস্ট করারও কোন সুযোগ থাকে না।দেশের বেশিরভাগ জায়গায় ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালই সারাদেশের রোগীদের আশ্রয়স্থল।

এখানে প্রতিমাসে চিকিৎসা পাচ্ছেন ৫০ হাজার রোগী। তারপরও দিনের পর দিন হাসপাতালের সামনে খোলা জায়গায় থাকছেন শতাধিক মানুষ।ক্যান্সার চিকিৎসায় শুধু হাসপাতালের সংকটই নেই, অভাব আছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও। এই বাস্তবতায় এ বছর ‘ক্যান্সারের সেবায় বৈষম্য দূর করি’ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে ক্যান্সার দিবস।

অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, আমাদের ২০০০ এর মত ক্যান্সার ডাক্তার প্রয়োজন কিন্তু আছে মাত্র ৩০০ জন। রোগীদের কেমো থেরাপি দেয়ার জন্য শহরে আসতে হচ্ছে। রেডিয়েশন দেয়ার জন্য কয়েকটি জায়গা ছাড়া দেয়ার সুযোগ নেই।

এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা উচিত।সম্প্রতি প্রতিটি বিভাগে একটি করে ক্যান্সার ইনস্টিটিউট করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তাবায়ন হলে ক্যান্সার চিকিৎসা আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:46 am, Friday, 4 February 2022
23 Time View

ক্যান্সার দিবস প্রতি বছর দেশে ক্যান্সারে মারা যায় এক লাখ মানুষ

Update Time : 08:46 am, Friday, 4 February 2022

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:- দেশে প্রতি বছর ক্যান্সারে মারা যায় এক লাখ মানুষ। ব্যবস্থা কম থাকায় দেরিতে শনাক্ত হচ্ছে ক্যান্সার।সচেতনতার অভাব যেমন আছে, তেমনি শনাক্তের ব্যবস্থাও কম।

এ কারণে দেরিতে শনাক্ত হচ্ছে ক্যান্সার। এতে ব্যাহত হচ্ছে রোগীর চিকিৎসা। গবেষণা বলছে, প্রতিবছর আক্রান্তদের অর্ধেকরই ক্যান্সার শনাক্ত হয় একেবারে শেষ মুহূর্তে। এছাড়া, আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের কারণে চিকিৎসার বাইরে থাকছে বড় অংশ। এই বাস্তবতায় সারাবিশ্বের মতো দেশেও পালিত হচ্ছে ক্যান্সার দিবস।পাঁচ বছর ধরে পায়ুপথের সমস্যায় ভুগছেন সেলিনা বেগম।

প্রথম বছর নিয়েছেন কবিরাজী চিকিৎসা। পরের বছর ভুল চিকিৎসার শিকার। শেষমেষ দু’হাজার ঊনিশে ধরা পড়ে ক্যান্সার।আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবো ক্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন দেড় লাখ মানুষ, যার অর্ধেকই থাকছেন চিকিৎসার বাইরে।

আর বছরে মারা যান প্রায় এক লাখ মানুষ।জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রথমত হচ্ছে কোন ইন্সুরেন্স এর ব্যবস্থা নাই কারণ আপনি বেকার। দ্বিতীয়ত হচ্ছে ক্যান্সার সম্পর্ক ধারণা নেই। তৃতীয়ত হচ্ছে আমরা সচেতন না যে আমাদের মুখে একটা ঘা হয়েছে এটা একজন ডেন্টিস্টকে দেখাবো। এর কারণে এটা নির্ণয়ে দেরি হচ্ছে। আর দেরির ফলে আর্থিক ব্যয়ও বেড়ে যায়। চিকিৎসার ফলাফলও দুর্বল হয়ে যায়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ রেডিওথেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, থানা বা জেলা পর্যায়ে ক্যান্সার পরীক্ষার তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নেই। স্যাম্পল নিয়ে পুরাতন হাসপাতালগুলোতে গিয়ে পরীক্ষা করা ছাড়া বা বায়োপসি টেস্ট করারও কোন সুযোগ থাকে না।দেশের বেশিরভাগ জায়গায় ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালই সারাদেশের রোগীদের আশ্রয়স্থল।

এখানে প্রতিমাসে চিকিৎসা পাচ্ছেন ৫০ হাজার রোগী। তারপরও দিনের পর দিন হাসপাতালের সামনে খোলা জায়গায় থাকছেন শতাধিক মানুষ।ক্যান্সার চিকিৎসায় শুধু হাসপাতালের সংকটই নেই, অভাব আছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও। এই বাস্তবতায় এ বছর ‘ক্যান্সারের সেবায় বৈষম্য দূর করি’ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে ক্যান্সার দিবস।

অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, আমাদের ২০০০ এর মত ক্যান্সার ডাক্তার প্রয়োজন কিন্তু আছে মাত্র ৩০০ জন। রোগীদের কেমো থেরাপি দেয়ার জন্য শহরে আসতে হচ্ছে। রেডিয়েশন দেয়ার জন্য কয়েকটি জায়গা ছাড়া দেয়ার সুযোগ নেই।

এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা উচিত।সম্প্রতি প্রতিটি বিভাগে একটি করে ক্যান্সার ইনস্টিটিউট করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তাবায়ন হলে ক্যান্সার চিকিৎসা আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।