Jashore , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

বাবা হারানো তিন যমজের মেডিকেলে চান্স

বগুড়া:-বগুড়ার ধুনট উপজেলার তিন জমজ এখন দেশের তিন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। এদের একজন মাফিউল ইসলাম গত বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তির সুযোগ পান শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় বাকি দুই যমজ সাফিউল হাসান ও রাফিউল ইসলাম ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দিনাজপুরের আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে।

তারা ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন।

তিন ছেলের সাফল্য নিয়ে তাদের মা আরজিনা বেগম জানান, প্রাথমিকে মেধার স্বাক্ষর রাখার পর তিন ছেলেকে ভর্তি করান ধুনটের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিন ভাই একসাথে জিপিএ-৫ নিয়ে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণের পর থেকেই ছেলেদের নিয়ে স্বপ্ন বাড়তে থাকে তার। ২০০৯ সালে তাদের বাবা গোলাম মোস্তফা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবার স্নেহ মমতা কিছুই পায়নি ওরা। নিজে কষ্ট করে জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখা করিয়েছেন তিনি। তাদের প্রায় ৫ বিঘা জমি ছিল। জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছেন। বাকি যা আছে তাও প্রয়োজনে বিক্রি করবেন, তবুও ওদের ডাক্তার বানাবেন তিনি। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, গ্রামের লোকজন ওদের যখন দেখতে আসে তখন গর্বে আমার বুক ভরে যায়।

গত শিক্ষাবর্ষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া মাফিউল হাসান বলেন, নিজে প্রথমবার চান্স পেলেও বাকি দুই ভাইয়ের ইচ্ছেপূরণ না হওয়ায় মনের মধ্যে কষ্ট থেকে যায়। এবার বাকিরা ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় নিজের মেডিকেল চান্স পাবার আন্দন পূর্ণতা পেলো বলে জানান মাফিউল।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চান্সপ্রাপ্ত সাফিউল বলেন, নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এক চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। চিকিৎসকের কথা এবং আচরণে তার মনে হয় অসুস্থ্যতা অর্ধেক কমে গেছে। একজন মানুষের কথা কিংবা ব্যবহার এত সহজে মানুষকে সুস্থ্য করে দিতে পারে সেই ভাবনা থেকে সেদিনই বড় হয়ে চিকিৎসক হবার স্বপ্ন দেখেন সাফিউল।

অন্যদিকে, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া রাফিউল ইসলাম বলেন, প্রথমবার আমাদের এক ভাই চান্স পেয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল আমাদের কষ্টের টাকা একটু হলেও কাজে লেগেছে। মা আর তিন ভাইয়ের যৌথস্বপ্ন পূরণে চেষ্টা করে গেছেন আবারও।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:47 pm, Tuesday, 13 February 2024
43 Time View

বাবা হারানো তিন যমজের মেডিকেলে চান্স

Update Time : 07:47 pm, Tuesday, 13 February 2024

বগুড়া:-বগুড়ার ধুনট উপজেলার তিন জমজ এখন দেশের তিন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। এদের একজন মাফিউল ইসলাম গত বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তির সুযোগ পান শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় বাকি দুই যমজ সাফিউল হাসান ও রাফিউল ইসলাম ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দিনাজপুরের আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে।

তারা ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন।

তিন ছেলের সাফল্য নিয়ে তাদের মা আরজিনা বেগম জানান, প্রাথমিকে মেধার স্বাক্ষর রাখার পর তিন ছেলেকে ভর্তি করান ধুনটের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিন ভাই একসাথে জিপিএ-৫ নিয়ে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণের পর থেকেই ছেলেদের নিয়ে স্বপ্ন বাড়তে থাকে তার। ২০০৯ সালে তাদের বাবা গোলাম মোস্তফা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবার স্নেহ মমতা কিছুই পায়নি ওরা। নিজে কষ্ট করে জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখা করিয়েছেন তিনি। তাদের প্রায় ৫ বিঘা জমি ছিল। জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছেন। বাকি যা আছে তাও প্রয়োজনে বিক্রি করবেন, তবুও ওদের ডাক্তার বানাবেন তিনি। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, গ্রামের লোকজন ওদের যখন দেখতে আসে তখন গর্বে আমার বুক ভরে যায়।

গত শিক্ষাবর্ষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া মাফিউল হাসান বলেন, নিজে প্রথমবার চান্স পেলেও বাকি দুই ভাইয়ের ইচ্ছেপূরণ না হওয়ায় মনের মধ্যে কষ্ট থেকে যায়। এবার বাকিরা ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় নিজের মেডিকেল চান্স পাবার আন্দন পূর্ণতা পেলো বলে জানান মাফিউল।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চান্সপ্রাপ্ত সাফিউল বলেন, নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এক চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। চিকিৎসকের কথা এবং আচরণে তার মনে হয় অসুস্থ্যতা অর্ধেক কমে গেছে। একজন মানুষের কথা কিংবা ব্যবহার এত সহজে মানুষকে সুস্থ্য করে দিতে পারে সেই ভাবনা থেকে সেদিনই বড় হয়ে চিকিৎসক হবার স্বপ্ন দেখেন সাফিউল।

অন্যদিকে, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া রাফিউল ইসলাম বলেন, প্রথমবার আমাদের এক ভাই চান্স পেয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল আমাদের কষ্টের টাকা একটু হলেও কাজে লেগেছে। মা আর তিন ভাইয়ের যৌথস্বপ্ন পূরণে চেষ্টা করে গেছেন আবারও।