Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

ডেইলি বাংলাদেশ টুডে তে সংবাদ প্রচারের পর বাতিল হচ্ছে তিন পাকিস্তানি শাসকের ডিগ্রী

মানিক কুমার স্টাফ রিপোর্টার:- ডেইলি বাংলাদেশ টুডে সংবাদ প্রচারের পর তিন পাকিস্তানি শাসককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি বাতিল করা হচ্ছে।


রবিবার, এক বৈঠকে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদেরকে এই তিন পাকিস্তানি সামরিক শাসকের ডিগ্রি বাতিল এর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত পাকিস্তানের সামরিক শাসকের ডিগ্রী নিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই তিন পাকিস্তানি শাসকের ডিগ্রী বাতিলের দাবি জোরালো হয়।

সামরিক শাসক এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরোধিতাকারী খাজা নাজিমুদ্দিন, ইস্কান্দর মির্জা ও আইয়ুব খানের মতো তিন পাকিস্তানি শাসককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দেয়া হলেও মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক অতিবাহিত হলেও প্রত্যাহার করা হয়নি।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সমাজে অসামান্য অবদান রাখা অনেক গুণীজনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ডিগ্রি পাওয়া ৫২ জনের মধ্যে তিনজনের রয়েছে বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশবিরোধী ভুমিকা।

১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দেয়া হয় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিনকে। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের এক জনসভায় তিনি ঘোষণা দেন, উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দেয় পাকিস্তানের সামরিক শাসনের সূচনাকারী সাবেক গর্ভনর জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জাকে। সংবিধান বলবৎ হওয়ার মাত্র আড়াই বছরের মাথায় ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর তিনি সংবিধান বাতিল ঘোষণা করেন।

আরেক ‘ডক্টর অব ল’ পাওয়া ব্যক্তি হলেন পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান। ১৯৬৮ সালে তার ইন্ধনে বঙ্গবন্ধুসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়।

মিয়ানমারে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে দেয়া সম্মাননা গত মার্চে প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাজ্যের দ্য সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন। এ দৃষ্টান্ত অনুসরণে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনের বিরোধীতাদের ঢাকা ব্শিবিদ্যালয়ের প্রদত্ত সমানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রতাহারের দাবি করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 10:58 pm, Sunday, 18 October 2020
37 Time View

ডেইলি বাংলাদেশ টুডে তে সংবাদ প্রচারের পর বাতিল হচ্ছে তিন পাকিস্তানি শাসকের ডিগ্রী

Update Time : 10:58 pm, Sunday, 18 October 2020

মানিক কুমার স্টাফ রিপোর্টার:- ডেইলি বাংলাদেশ টুডে সংবাদ প্রচারের পর তিন পাকিস্তানি শাসককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি বাতিল করা হচ্ছে।


রবিবার, এক বৈঠকে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদেরকে এই তিন পাকিস্তানি সামরিক শাসকের ডিগ্রি বাতিল এর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত পাকিস্তানের সামরিক শাসকের ডিগ্রী নিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই তিন পাকিস্তানি শাসকের ডিগ্রী বাতিলের দাবি জোরালো হয়।

সামরিক শাসক এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরোধিতাকারী খাজা নাজিমুদ্দিন, ইস্কান্দর মির্জা ও আইয়ুব খানের মতো তিন পাকিস্তানি শাসককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দেয়া হলেও মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক অতিবাহিত হলেও প্রত্যাহার করা হয়নি।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সমাজে অসামান্য অবদান রাখা অনেক গুণীজনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ডিগ্রি পাওয়া ৫২ জনের মধ্যে তিনজনের রয়েছে বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশবিরোধী ভুমিকা।

১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দেয়া হয় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিনকে। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের এক জনসভায় তিনি ঘোষণা দেন, উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দেয় পাকিস্তানের সামরিক শাসনের সূচনাকারী সাবেক গর্ভনর জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জাকে। সংবিধান বলবৎ হওয়ার মাত্র আড়াই বছরের মাথায় ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর তিনি সংবিধান বাতিল ঘোষণা করেন।

আরেক ‘ডক্টর অব ল’ পাওয়া ব্যক্তি হলেন পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান। ১৯৬৮ সালে তার ইন্ধনে বঙ্গবন্ধুসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়।

মিয়ানমারে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে দেয়া সম্মাননা গত মার্চে প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাজ্যের দ্য সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন। এ দৃষ্টান্ত অনুসরণে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনের বিরোধীতাদের ঢাকা ব্শিবিদ্যালয়ের প্রদত্ত সমানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রতাহারের দাবি করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।